বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:০১ পিএম
বর্তমান সময়ে একা থাকা বা একাকী সময় কাটানোকে আর নেতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠছে মানসিক শান্তি, স্বাধীনতা ও আত্ম-অন্বেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। নতুন প্রজন্মের বই, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক আলোচনায় এখন জোর দেওয়া হচ্ছে— মানুষের জীবনে একাকীত্বও প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
'পারফেক্ট ডেইজ' জাপানিজ চলচ্চিত্রে পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স একটি চরিত্রের মাধ্যমে এই অনুভূতিটিই তুলে ধরেছেন। টোকিওর এক টয়লেট পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নিঃশব্দ জীবন— গাছের যত্ন নেওয়া, গান শোনা, বই পড়া আর নিজের সঙ্গে সময় কাটানো। যা অনেক দর্শকের কাছে শান্ত ও পরিপূর্ণ জীবনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি একের পর এক বই প্রকাশিত হচ্ছে যেখানে একা থাকার ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত 'সলিটিউড: দ্য সায়েন্স অ্যান্ড দ্য পাওয়ার অফ বিং এলন' এবং 'সোলো: বিল্ডিং এ রিমার্কেবল লাইফ অফ ইয়োর ওউন'- বই দুটি একাকী সময়ের মানসিক উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছে। চলতি বছর প্রকাশিত হয়েছে 'সিংগেল: লিভিং এ কমপ্লিট লাইফ অন ইয়োর ওউন টার্মস'।
মনোবিজ্ঞানী রবার্ট কপলেন মনে করেন, একাকিত্ব এবং নিজের ইচ্ছায় একা থাকা এক বিষয় নয়। তার মতে, একাকিত্ব ক্ষতিকর হতে পারে, কিন্তু সচেতনভাবে একা সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
করোনা মহামারির পর লোনলিনেস এপিডেমিক বা একাকিত্বের মহামারির কথা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। যা জনপ্রিয় করেন তৎকালীন মার্কিন সার্জন জেনারেল ভিভেক মুর্থী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আলোচনার মধ্যেই মানুষ বুঝতে শুরু করেছে— একাকিত্ব এবং স্বেচ্ছায় একা থাকা ভিন্ন বিষয়। গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালের এক জরিপে প্রায় ৪০ শতাংশ জেন জি ও মিলেনিয়াল মনে করেন বিয়ে এখন আর অপরিহার্য নয়। একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একা থাকার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো এটি যেন নিজের পছন্দের সিদ্ধান্ত হয়। তখনই একাকী সময় সৃজনশীলতা, আত্মচিন্তা ও মানসিক ভারসাম্য তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
বইয়ের লেখক ও গবেষকদের পরামর্শ— একাকী সময়কে শুধু নিঃসঙ্গতা হিসেবে না দেখে তা কাজে লাগানো যেতে পারে। যেমন হাঁটা, সংগীত শোনা, জার্নাল লেখা বা নতুন কিছু শেখার মতো কাজে। তাদের মতে, মানুষের যেমন সামাজিক যোগাযোগ প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নিরিবিলি নিজের সঙ্গে কাটানো সময়ও। এই দুইয়ের সঠিক ভারসাম্যই শেষ পর্যন্ত সুখী ও সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
আরটিভি/জামাঅ/এমএইচজে