বাংলাদেশে হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব সম্প্রতি অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে এবং হাসপাতালে শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। যা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং টিকা না নেওয়ার কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।
হাম হলে কী খাওয়ানো উচিত?
হামে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং শরীর দ্রুত ঠিক হতে পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেসব খাবার খাওয়া জরুরি তা হল:
* পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার, যেমন- পানি, ফলের রস ও স্যুপ। এগুলো ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।
* ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার — যেমন গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক, ব্রকলি।
* প্রোটিনযুক্ত খাদ্য — মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ ইত্যাদি।
* জিংক এবং ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার — বাদাম, শিম, লেবু, স্ট্রবেরি; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
কি কি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?
* চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার।
* অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত এবং ভাজাপোড়া খাবার।
* ঝাল ও মসলা যুক্ত খাবার।
* ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়।
এছাড়া যদি কারও কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তা অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, হামের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও পরিচর্যায় কয়েকটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, টিকাদানই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ, যেখানে দুই ডোজ এমআর (Measles-Rubella) টিকা গ্রহণ করলে প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে অনেক সময় ভিটামিন-এ এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা জটিলতা বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে। এছাড়া হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাস চিকিৎসা নেই বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাই চিকিৎসা মূলত লক্ষণ কমানো ও জটিলতা প্রতিরোধের ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা শিশু ও অপর টিকাগ্রহণ না করা ব্যক্তিদের বেশি আক্রান্ত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোগীকে পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া, বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঝাল, ভারী ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকলে দ্রুত আরামে সহায়তা পাওয়া যায়।
আরটিভি/জামাঅ/এমএইচজে




