রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০১ এএম
দেশজুড়ে তীব্র গরমে বাড়ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে এই সময় সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় হিটস্ট্রোক। প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে গেলে এবং শরীর ঘাম দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এতে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু মানুষ হিটস্ট্রোকে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি, রোদে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী এবং যারা দীর্ঘ সময় খোলা রোদে থাকেন।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ
হিটস্ট্রোক হলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীর অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়া, ঘাম কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন।
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে করণীয়
গরমে সুস্থ থাকতে নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি পান করা ভালো। প্রয়োজনে ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানিও খাওয়া যেতে পারে।
এছাড়া দুপুর ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা উচিত। হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে মাঝে মাঝে ছায়া বা ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নেওয়া এবং অতিরিক্ত ভারী কাজ এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন
কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে। কাপড় ঢিলা করে দিয়ে শরীরে ঠান্ডা পানি দেওয়া বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু সচেতন থাকলেই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব। তাই তীব্র গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া খোলা রোদে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।
আরটিভি/জেএমএ