images

লাইফস্টাইল / গৃহসজ্জা / পরামর্শ

ফ্যান কেনার আগে জেনে নিন ৫ জরুরি বিষয়

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৪১ এএম

গরম পড়তে শুরু করলেই বাড়ে ফ্যানের চাহিদা। তীব্র গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে অনেকেই এই সময় নতুন ফ্যান কেনার কথা ভাবেন। বাজারে গেলেই দেখা যায় নানা ব্র্যান্ড, মডেল ও দামের অসংখ্য ফ্যান। তবে শুধু দাম দেখে ফ্যান কিনলে পরে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্যান কেনার সময় শুধু বাতাস পাওয়া যাচ্ছে কি না তা খেয়াল করলেই হবে না। সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শব্দ এবং ওয়ারেন্টির বিষয়েও নজর দেওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য জেনে ফ্যান কিনলে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, তেমনি ফ্যানও দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

বাজারে বাড়ছে ফ্যানের চাহিদা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর রিংরোডের হোলসেল ইলেকট্রনিক্স সিটির কর্নধার ফয়সাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, গ্রীষ্ম এলেই ফ্যানের বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। তার ভাষায়, এখন ফ্যান শুধু বাতাস দেওয়ার যন্ত্র নয়। আধুনিক ডিজাইন ও প্রযুক্তির কারণে এটি ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ায়। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির কারণে বিদ্যুৎ খরচও অনেক কম হয়। ফলে ক্রেতারা এখন শুধু দাম নয়, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার দিকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কি না দেখুন

ফ্যান কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যুৎ খরচ। পুরোনো মডেলের অনেক ফ্যানে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হয়। বর্তমানে বাজারে বিএলডিসি প্রযুক্তির ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে। যা সাধারণ ফ্যানের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। এসব ফ্যান কম গরম হয় এবং শব্দও কম করে। দেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির ফ্যান বাজারে এনেছে। যা ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ঘরের জন্য কোন ফ্যান ভালো?

সব ফ্যান সব জায়গার জন্য উপযুক্ত নয়। ঘরের আকার, ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান নির্বাচন করা উচিত।

সিলিং ফ্যান: সাধারণত ড্রয়িংরুম বা বেডরুমের জন্য উপযোগী। এটি পুরো ঘরে সমানভাবে বাতাস ছড়িয়ে দেয়।

স্ট্যান্ড ফ্যান: ছোট ঘর বা রান্নাঘরের জন্য ভালো। সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়।

রিচার্জেবল ফ্যান: লোডশেডিংয়ের সময় বেশ উপকারী। একবার চার্জ দিলে ৪ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে।

ওয়াল ফ্যান: ঘরে জায়গা কম হলে দেওয়ালে লাগানো যায়। দোকান বা ছোট ঘরের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।

আরও পড়ুন
Web-Image

জানুন একই গ্যাস সিলিন্ডারে বেশি দিন রান্নার সহজ কৌশল

নতুন প্রযুক্তির সুবিধা

এখনকার ফ্যানে শুধু বাতাস নয়, যুক্ত হয়েছে নানা আধুনিক প্রযুক্তিও। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রনি হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ফ্যান কেনার আগে এর ফিচারগুলো বুঝে নেওয়া জরুরি। বর্তমানে অনেক ফ্যানে স্মার্ট অপারেটিং সিস্টেম, ভয়েস কমান্ড, রিমোট কন্ট্রোল, সেন্সর সিস্টেম এবং টাচ সুইচিং সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যবহার আরও সহজ ও আধুনিক হয়ে উঠেছে।

দাম ও ওয়ারেন্টি গুরুত্বপূর্ণ

ফ্যান কেনার সময় ওয়ারেন্টির বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রাজধানীর কারওয়ানবাজার ইলেকট্রিক মার্কেটের ব্যবসায়ী হাছানাৎ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বাজারে ফ্যানের দাম মডেল ও ব্র্যান্ড অনুযায়ী প্রায় আড়াই হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ভালো ব্র্যান্ডের ফ্যানে সাধারণত পাঁচ থেকে ১২ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। বিশেষ করে মোটর রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা থাকলে সেটি আরও ভালো।

ফ্যানের যত্ন যেভাবে নেবেন

ফ্যান কিনে ফেললেই দায়িত্ব শেষ নয়। সঠিকভাবে যত্ন না নিলে ফ্যান দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

  • নিয়মিত ফ্যানের ব্লেড ও গ্রিল পরিষ্কার করা
  • বিদ্যুৎ চলে গিয়ে আবার এলে কিছুক্ষণ পর ফ্যান চালু করা
  • ফ্যানের তার ও সুইচ নিয়মিত পরীক্ষা করা
  • সরাসরি রোদ যেন ফ্যানের ওপর না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা
  • সিলিং ফ্যানের সেফটি ওয়্যার ঠিক আছে কি না যাচাই করা

সচেতন হলেই সঠিক সিদ্ধান্ত

গরমের সময় স্বস্তি পেতে ফ্যান একটি প্রয়োজনীয় যন্ত্র। তবে শুধু দাম দেখে ফ্যান কিনলে পরে আফসোস হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, ফিচার এবং ওয়ারেন্টি, এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করেই ফ্যান কেনা উচিত। এতে যেমন বিদ্যুৎ বিল কম হবে, তেমনি ফ্যানও দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে।


আরটিভি/জেএমএ