বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৪৪ এএম
প্রতিদিনের রান্নায় একটু বেশি তেল ব্যবহার অনেকের কাছেই বিষয়টি খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু অজান্তেই এই অভ্যাস শরীরে ডেকে আনতে পারে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত তেল খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্রোগ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, আমরা কী খাচ্ছি তার পাশাপাশি কতটা খাচ্ছি, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তেলের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সুস্থ থাকার জন্য জরুরি।
খাবারে তেলের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, প্রোটিন, চর্বি ও ভিটামিন এসবকিছুরই সঠিক ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক মোট ক্যালোরির প্রায় এক–চতুর্থাংশ থেকে এক–তৃতীয়াংশ পর্যন্ত চর্বি থেকে আসতে পারে। তবে এই চর্বি শুধু রান্নার তেল থেকেই আসে না। দুধ, মাছ, মাংস ও বাদাম থেকেও শরীরে চর্বি জমে। তাই রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চর্বি জমে যেতে পারে।
প্রতিদিন কতটা তেল খাওয়া নিরাপদ
খাদ্য ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিনের খাবারে প্রায় ৩ থেকে ৫ চা চামচ তেল থাকাই যথেষ্ট। যাদের ওজন বেশি বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও কমিয়ে ২ চা চামচের মধ্যে রাখা ভালো।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাসিক তেল গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটারের মধ্যে থাকলে তা স্বাস্থ্যসম্মত ধরা হয়।
রান্নায় তেল কমানোর সহজ উপায়
খাবারে তেলের ব্যবহার কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে—
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া নয়, বরং পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিনের খাবারে সামান্য সচেতনতা আনলেই অতিরিক্ত তেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ