ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যে অভ্যাসে বিপদ ডেকে আনছে আপনার শিশু

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

খেলতে খেলতে হঠাৎ নখ মুখে দেওয়া, এ দৃশ্য অনেক অভিভাবকের কাছেই খুব পরিচিত। অনেক শিশুরই নখ কামড়ানোর অভ্যাস থাকে। কখনও একঘেয়েমি কাটাতে, কখনও চিন্তা বা অস্থিরতার সময় অজান্তেই তারা নখ মুখে দেয়। বেশিরভাগ অভিভাবক বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। সাধারণ অভ্যাস বলেই মনে করেন।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত নখ কামড়ানোর অভ্যাস শিশুদের জন্য নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ নখের নিচে জমে থাকা ময়লা, ধুলাবালি ও জীবাণু খুব সহজেই মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। ফলে শিশুদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি

নখের নিচে সাধারণত অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা জমে থাকে। শিশু যখন নখ কামড়ায়, তখন এসব জীবাণু সরাসরি শরীরে ঢুকে যায়। এর ফলে পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বা পেটের সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু বারবার অসুস্থ হওয়ার পেছনে এই অভ্যাসটিই বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কৃমি হওয়ার আশঙ্কা

শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো অপরিষ্কার হাত মুখে দেওয়া। নখ কামড়ানোর ফলে কৃমির ডিম খুব সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, পেটব্যথা কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন

দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি

নিয়মিত নখ কামড়ানোর ফলে দাঁতের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে দাঁতের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হতে পারে এবং দাঁত বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে শিশুর দাঁতের সারিবদ্ধতা নষ্ট হতে পারে। যা পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

নখ ও ত্বকের সংক্রমণ

নখ কামড়ানোর সময় অনেক শিশু নখের আশপাশের ত্বকও কামড়ে ফেলে। এতে ত্বকে ছোট ক্ষত তৈরি হয় এবং সেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে সংক্রমণ হতে পারে। ফলে নখের চারপাশে লালচে ভাব, ফোলা বা ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই সংক্রমণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক চাপের ইঙ্গিতও হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় নখ কামড়ানো শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি মানসিক চাপ বা উদ্বেগের লক্ষণও হতে পারে। পড়াশোনার চাপ, ভয়, একাকীত্ব বা মানসিক অস্বস্তির কারণে অনেক শিশু অজান্তেই এই অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে শিশুর মানসিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

কীভাবে কমাবেন এই অভ্যাস?

শিশুর নখ কামড়ানোর অভ্যাস কমাতে ধৈর্য ও সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত শিশুর নখ ছোট করে কেটে পরিষ্কার রাখা। শিশুকে বকা বা শাসন না করে শান্তভাবে বোঝানো দরকার যে এটি ভালো অভ্যাস নয়।

এছাড়া শিশুকে খেলাধুলা, আঁকাআঁকি বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে। যাতে তার মন অন্যদিকে থাকে। যদি শিশুর মধ্যে উদ্বেগ বা মানসিক চাপের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে তার সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনে শিশু বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শিশুর নখ কামড়ানোর অভ্যাস অনেক সময় ছোট বিষয় মনে হলেও এর পেছনে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই শুরু থেকেই এই অভ্যাস কমানোর বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। এতে শিশুর সুস্থতা ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হবে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৭০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
দুই গ্রামে শিয়ালের তাণ্ডব, নারী-শিশুসহ আহত ৯
প্রচণ্ড ভিড়ে চলন্ত ট্রেন থেকে শিশুসন্তানকে নামাতে ব্যর্থ মা, অতঃপর...
২০ মাসের কন্যাসন্তানকে বিক্রির চেষ্টা মাদকাসক্ত বাবার