ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

যে অভ্যাসে বিপদ ডেকে আনছে আপনার শিশু

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

খেলতে খেলতে হঠাৎ নখ মুখে দেওয়া, এ দৃশ্য অনেক অভিভাবকের কাছেই খুব পরিচিত। অনেক শিশুরই নখ কামড়ানোর অভ্যাস থাকে। কখনও একঘেয়েমি কাটাতে, কখনও চিন্তা বা অস্থিরতার সময় অজান্তেই তারা নখ মুখে দেয়। বেশিরভাগ অভিভাবক বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। সাধারণ অভ্যাস বলেই মনে করেন।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত নখ কামড়ানোর অভ্যাস শিশুদের জন্য নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ নখের নিচে জমে থাকা ময়লা, ধুলাবালি ও জীবাণু খুব সহজেই মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। ফলে শিশুদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি

নখের নিচে সাধারণত অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা জমে থাকে। শিশু যখন নখ কামড়ায়, তখন এসব জীবাণু সরাসরি শরীরে ঢুকে যায়। এর ফলে পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বা পেটের সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু বারবার অসুস্থ হওয়ার পেছনে এই অভ্যাসটিই বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কৃমি হওয়ার আশঙ্কা

শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো অপরিষ্কার হাত মুখে দেওয়া। নখ কামড়ানোর ফলে কৃমির ডিম খুব সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, পেটব্যথা কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন

দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি

নিয়মিত নখ কামড়ানোর ফলে দাঁতের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে দাঁতের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হতে পারে এবং দাঁত বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে শিশুর দাঁতের সারিবদ্ধতা নষ্ট হতে পারে। যা পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

নখ ও ত্বকের সংক্রমণ

নখ কামড়ানোর সময় অনেক শিশু নখের আশপাশের ত্বকও কামড়ে ফেলে। এতে ত্বকে ছোট ক্ষত তৈরি হয় এবং সেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে সংক্রমণ হতে পারে। ফলে নখের চারপাশে লালচে ভাব, ফোলা বা ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই সংক্রমণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক চাপের ইঙ্গিতও হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় নখ কামড়ানো শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি মানসিক চাপ বা উদ্বেগের লক্ষণও হতে পারে। পড়াশোনার চাপ, ভয়, একাকীত্ব বা মানসিক অস্বস্তির কারণে অনেক শিশু অজান্তেই এই অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে শিশুর মানসিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

কীভাবে কমাবেন এই অভ্যাস?

শিশুর নখ কামড়ানোর অভ্যাস কমাতে ধৈর্য ও সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত শিশুর নখ ছোট করে কেটে পরিষ্কার রাখা। শিশুকে বকা বা শাসন না করে শান্তভাবে বোঝানো দরকার যে এটি ভালো অভ্যাস নয়।

এছাড়া শিশুকে খেলাধুলা, আঁকাআঁকি বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে। যাতে তার মন অন্যদিকে থাকে। যদি শিশুর মধ্যে উদ্বেগ বা মানসিক চাপের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে তার সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনে শিশু বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শিশুর নখ কামড়ানোর অভ্যাস অনেক সময় ছোট বিষয় মনে হলেও এর পেছনে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই শুরু থেকেই এই অভ্যাস কমানোর বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। এতে শিশুর সুস্থতা ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হবে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
উদ্বেগজনক নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, শুধু অক্টোবরেই ধর্ষণের শিকার ৫১
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
মাঝনদীতে জন্ম নিলো ফুটফুটে কন্যাশিশু
বাড়ির পাশের খালে পড়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু