মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১৮ এএম
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ, বাংলা সনের প্রথম দিন। বাংলাদেশসহ বাঙালি সমাজে দিনটি দীর্ঘদিন ধরে নববর্ষ হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদযাপন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমরা।
ইতিহাসে বাংলা সনের শুরু
ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল সম্রাট জলালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর খাজনা আদায় সহজ করার জন্য বাংলা সন চালু করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজীর সহায়তায় এই পঞ্জিকা চালু করা হয়। হিজরি চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের সমন্বয়ে তৈরি এই সন মূলত কৃষি ও খাজনার হিসাব সহজ করার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়েছিল। পরে এটি বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন নামে পরিচিতি পায়।
হালখাতা ছিল মূল আয়োজন
এক সময় পহেলা বৈশাখের প্রধান আয়োজন ছিল হালখাতা। কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিনে খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পরদিন নতুন হিসাবের খাতা খোলা হতো। ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে মেলা ও ছোটখাটো অনুষ্ঠানও হতো।
আধুনিক উৎসবের সূচনা
বর্তমান সময়ের বৈশাখ উদযাপনের ধারা শুরু হয় ষাটের দশকে। ১৯৬৭ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ঢাকার রমনা বটমূল এলাকায় গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণের আয়োজন শুরু করে। এরপর ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা বর্তমানে বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম আলোচিত অংশ।
ইসলামী দৃষ্টিতে আপত্তির কারণ
কিছু ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, পহেলা বৈশাখের কিছু প্রচলিত আয়োজন ইসলামের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি বা মুখোশ প্রদর্শনের মাধ্যমে অমঙ্গল দূর হওয়ার বিশ্বাস প্রচার করা হয়। অথচ ইসলামী আকিদা অনুযায়ী কল্যাণ ও অকল্যাণের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতেই। এছাড়া পহেলা বৈশাখে খুব ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ইনস্টিটিউট থেকে রমনা পার্কে গিয়ে সূর্যোদয় দেখার রীতি রয়েছে। সেখানে অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা এমন বিশ্বাস প্রচলিত। অর্থাৎ সূর্যের প্রখর আলোয় বা আগুনে স্নান প্রকৃতির জীর্ণতা, পুরোনো বছরের সব ব্যর্থতা ও ক্লান্তি দূর করে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। যা অনেকের মতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রভাব বহন করে।
এ নিয়ে কোরআনে উল্লেখ আছে, ''আমি তাকে ও তার কওমকে দেখতে পেলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে। আর শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের জন্য সৌন্দর্যমন্ডিত করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত করেছে, ফলে তারা হিদায়াত পায় না।'' সুরা নামল: ২৪
সামাজিক দিক নিয়েও আলোচনা
আলেমদের একটি অংশের মতে, বৈশাখের বিভিন্ন মেলা ও শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং কিছু অশালীনতা দেখা যায়। যা ইসলামী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সচেতনতার আহ্বান
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, একজন মুসলমানের উচিত নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের আলোকে যেকোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন মূল্যায়ন করা। তারা তরুণদের বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে কোনো আয়োজনের কারণে ধর্মীয় বিশ্বাস বা নৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তাদের মতে, সংস্কৃতি চর্চা থাকতে পারে। তবে তা যেন ইসলামের মূল বিশ্বাস ও নৈতিকতার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি না করে। সেদিকে সবারই নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আরটিভি/জেএমএ