ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

জুমার নামাজের গুরুত্ব-ফজিলত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

জুমা মুসলিমদের সমাবেশের দিন। এ দিনকে ‘ইয়াওমুল জুমাআ' বলা হয়। জুমা নামে পবিত্র কুরআনে একটি সুরা রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিনটি অনেক বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনেই হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়, এ দিনেই তাকে জান্নাতে দেয়া হয় এবং এ দিনেই জন্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়। আর, কেয়ামত এ দিনেই সংঘটিত হবে। জুমার দিনে এমন একটি মুহুর্ত আছে, যাতে মানুষ যে দোয়াই করে, তাই কবুল হয়।- এ সবই বলেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ কোরআনুল কারিমে একটি সুরাই নাজিল করেছেন। সুরাটিতে জুমার দিনের ইবাদত সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ অর্থ-হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং কেনা-বেচা ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সুরা জুমুআ : আয়াত ৯)

আরও পড়ুন

হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে-

১. নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমরা সবশেষে এসেও কেয়ামতের দিন সবার অগ্রগামী হবো। আমরাই প্রথম জান্নাতে প্ৰবেশ করবো। যদিও তাদেরকে আমাদের আগে কিতাব দেয়া হয়েছিল, আর আমাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পরে। কিন্তু তারা এতে মতভেদে লিপ্ত হয়েছে। এরপর আল্লাহ আমাদেরকে তাদের মতভেদপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পথ দিয়েছেন। এ যে দিনটি, তারা এতে মতভেদ করেছে। এরপর আল্লাহ আমাদেরকে এ দিনের সঠিক হেদায়াত দান করেছেন। তাহলো- জুমার দিন। সুতরাং আজ আমাদের, কাল ইহুদিদের। আর পরশু নাসারাদের। (বুখারি ও মুসলিম)

সম্ভবত ইহুদিদের আলোচনার পর কোরআনে জুমার আলোচনার কারণ এটাই যে, তাদের ইবাদতের যুগ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন কেবল মুসলিমদের ইবাদতের দিনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। আর তা হচ্ছে জুমার দিন। জাহেলি যুগে শুক্রবারকে 'ইয়াওমে আরূবা' বলা হতো।

আরবে কাব ইবনে লুয়াই সর্বপ্রথম এর নাম ‘ইয়াওমুল 'জুমুআ’ রাখেন। কারণ, জুমা শব্দটির অর্থ একত্রিত করা। এ দিনে কুরাইশদের সমাবেশ হতো এবং কাব ইবনে লুয়াই ভাষণ দিতেন।

সারকথা এ যে, ইসলামের আবির্ভাবের আগে কাব ইবনে লুয়াই-এর আমলে শুক্রবার দিনকে গুরুত্ব দান করা হত। তিনিই এ দিনের নাম জুমার দিন রেখেছিলেন।

২. কিন্তু বিশুদ্ধ হাদিসের বর্ণনা মতে, আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টিকে এ দিন একত্রিত করা হয়েছিল বলেই এ দিনকে জুমা নামকরণ করা হয়েছে। (মুসতাদরাকে হাকেম, ইবনে খুযাইমা, তাবারানি)

জুমার দিন নামাজের জন্য আহবান
জুমার দিন নামাজের জন্য আজান ও খুতবার আজান দেয়াকে বুঝানো হয়েছে। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ, আবু বকর এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার যুগে জুমারর দিনে ইমাম যখন মিম্বরে বসতো তখন প্রথম আজান দেয়া হতো। এরপর যখন ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ আসলো এবং মানুষ বেড়ে গেল তখন দ্বিতীয় আহবানটি তিনি বাড়িয়ে দেন। (বুখারি)

জুমার নামাজের দ্রুত আসার নির্দেশ
আয়াতে فَاسْعَوْا শব্দের অর্থ হলো- দৌড়ানো এবং অপর অর্থ কোনো কাজ গুরুত্ব সহকারে করা। এখানে এ অর্থ উদ্দেশ্য। কারণ, নামাজের জন্যে দৌড়ে আসতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রশান্তি ও গাম্ভীৰ্য সহকারে নামাজের জন্যে গমন কর। (বুখারি, মুসলিম)

তবে আয়াতের উদ্দেশ্য হলো- দেরি না করে গুরুত্বসহকারে দ্রুত সময়ের মধ্যে জুমার নামাজে উপস্থিত হওয়া। জুমার দিনে জুমার আজান দেয়া হলে আল্লাহর জিকিরের দিকে গুরুত্বসহকারে যাও। অর্থাৎ নামাজ ও খুতবার জন্য মসজিদে যেতে যত্নবান হও। যে ব্যক্তি দৌড় দেয়, সে যেমন অন্য কোন কাজের প্রতি মনোযোগ না দেয়, তোমরাও তেমনি আজানের পর নামাজ ও খুতবা ছাড়া অন্য কাজের দিকে মনোযোগ দিও না।

দ্রুত জুমার নামাজে যাওয়ার ফজিলত
এখানে ‘জিকির’ বলে জুমার নামাজ এবং এ নামাজের অন্যতম শর্ত খুতবাও বোঝানো হয়েছে। হাদিসে জুমার দিনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মসজিদে হাজির হওয়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে জানাবত তথা অপবিত্র অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়ার মতো গোসল করবে, এরপর (প্রথম সময়ে) মসজিদে হাজির হবে সে যেন একটি উট কোরবানি করলো। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে মসজিদে গেল সে যেন একটি গরু কোরবানি করলো। যে তৃতীয় সময়ে গেল সে যেন শিংওয়ালা ছাগল কোরবানি করলো। যে চতুর্থ সময়ে গেল সে যেন একটি মুরগী উৎসর্গ করলো। যে পঞ্চম সময়ে গেল সে যেন ডিম উৎসর্গ করলো। এরপর যখন ইমাম বের হয়ে যায় তখন ফেরেশতারা (লেখা বন্ধ করে) ইমামের কাছে হাজির হয়ে জিকির (খুতবা) শুনতে থাকে। (বুখারি)

এ সময়টি অনেকের কাছে দোয়া কবুল হওয়ার সময় হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে এসেছে- নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে কোনো মুসলিম যদি সে সময়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ চায় তবে অবশ্যই তিনি তাকে সেটা দিবেন। (বুখারি)

পরের আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন- فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ ابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَ اذۡکُرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ
এরপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা জুমুআ : আয়াত ১০)

এ আয়াতের অর্থ হলো- বৈষয়িক কাজ-কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য। অর্থাৎ জুমার নামাজ শেষ করার পর তোমরা পুনরায় নিজ নিজ কাজে-কামে এবং দুনিয়ার ব্যস্ততায় লেগে যাও। এ থেকে উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেয়া যে, জুমার দিন কাজ-কর্ম বন্ধ রাখা জরুরি নয়। কেবল নামাজের জন্য তা বন্ধ রাখা জরুরি।

মনে রাখতে হবে
প্রতি সপ্তাহে জুমার জামাত আমাদের কেয়ামতের জমায়েতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কেয়ামতের সময় আমাদের জমায়েত হতেই হবে। এ সাপ্তাহিক জমায়েত হাশরের জমায়েতেরই একটা মহড়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত পেতে কোরআনের দিকনির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। হাদিসের দিকনির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার যে কারণে সপ্তমী তিথি দুইদিন
পঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। তবে, এবছর সপ্তমী তিথি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন অনেক ভক্ত। কারণ, পঞ্জিকা অনুযায়ী এবার সপ্তমী পড়েছে দুই দিন। 
এবার যে কারণে সপ্তমী তিথি দুইদিন
শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কি পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক, জানুন ইসলামের বিধান
আমাদের সমাজে বিয়ের পর পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা ও সংসারের নানা দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা করা হয়।
শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কি পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক, জানুন ইসলামের বিধান
অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলে যে শাস্তি দেবেন আল্লাহ
ব্যক্তি, সমাজ জীবনে সবারই গোপনীয়তা থাকে। গোপনীয়তার বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত। গোপনীয়তা ছাড়া কোনও মানুষই নেই বলতে গেলে। একান্ত আপনজনের কাছেও মানুষ অনেক কিছুই গোপন করে। আল্লাহ তায়ালাই মানুষকে এই অধিকার দিয়েছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অন্য কারো ব্যক্তিগত গোপন বিষয় ও দোষ খোঁজা নিন্দনীয়। অকারণে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় বিষয় নিয়ে গুপ্তচরের ভূমিকা পালন করা গুনাহ। অনুমতি ছাড়া কারো কথা শোনা এবং তথ্য ফাঁস করা এবং কারো বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করলে ভয়াবহ শাস্তি ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কথা গুপ্তভাবে শুনল; অথচ সে তাদের কথাগুলো শুনুক তারা তা পছন্দ করছে না অথবা তারা তার অবস্থান টের পেয়ে তার থেকে দূরে পালিয়ে যাচ্ছে, কিয়ামতের দিন এ জন্য তার কানে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৭০৪২) আরেকটি হাদিসে কথাটি আরো সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে, ‘হে লোকেরা, তোমরা যারা মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছ; অথচ ঈমান তোমাদের অন্তরে ঢোকেনি, তোমরা মুসলমানদের কষ্ট দিয়ো না। তাদের দোষ অনুসন্ধান করো না। কারণ যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ অনুসন্ধান করল, আল্লাহ তাআলা তার দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর যার দোষ আল্লাহ তায়ালা অনুসন্ধান করবেন তাকে অবশ্যই তিনি লাঞ্ছিত করে ছাড়বেন, যদিও সে নিজ ঘরের অভ্যন্তরেই অবস্থান করুক না কেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৩২) মানুষের কল্যাণার্থে মানুষের দোষ-ত্রুটি এবং গোপন বিষয় প্রকাশ না করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপনকারীর দোষ গোপন করেন। তাকে উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন। মানবতার নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯৪৫) হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, ব্যতিব্যস্ত হয়ো না এবং কারো গোপন তথ্য ফাঁস করো না। কেননা তোমাদের পেছনে রয়েছে কেয়ামতের) ভীষণ কষ্টদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী বিপদসমূহ’ (আদাবুল মুফরাদ)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন তোমার সঙ্গীর দোষ চর্চা করতে ইচ্ছা করে, তখন তোমার নিজের দোষ স্মরণ করো।’ (আদাবুল মুফরাদ) আরটিভি/এসআর
অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলে যে শাস্তি দেবেন আল্লাহ
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সম্পন্ন
আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সম্পন্ন
আরও পড়ুন
জুমার দিন আসরের পর বিশেষ আমল
জুমার দিন আগে মসজিদে গেলে মিলবে যে সওয়াব
জুমার দিনের যে আমলে মিলবে বড় সওয়াব
জুমার দিনে যে আমলের ফজিলত সবচেয়ে বেশি