বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৪৮ এএম
কলা এমন একটি ফল, যা প্রায় প্রতিদিনই অনেকের খাদ্যতালিকায় থাকে। কিন্তু কাঁচা আর পাকা কলার মধ্যে পার্থক্য শুধু স্বাদেই নয়, শরীরের ওপর প্রভাবেও বড় পরিবর্তন আনে।
সবুজ বা কাঁচা কলা ধীরে ধীরে পেকে হলুদ হলে এর ভেতরের স্টার্চ ভেঙে প্রাকৃতিক চিনিতে রূপ নেয়। এই পরিবর্তনের কারণেই কাঁচা ও পাকা কলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতাও ভিন্ন হয়ে যায়।
কাঁচা কলায় থাকে বেশি ফাইবারজাতীয় উপাদান। এতে এক ধরনের বিশেষ কার্বোহাইড্রেট থাকে। যা হজম ধীর করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা হজমের সমস্যা কমাতে চান, তাদের জন্য কাঁচা কলা উপকারী বলে ধরা হয়।
এছাড়া কাঁচা কলা রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যারা সতর্ক থাকেন। তাদের জন্য এটি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।
অন্যদিকে পাকা কলা দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। পাকার সময় এতে থাকা স্টার্চ ভেঙে সহজে হজমযোগ্য চিনি তৈরি হয়। যা শরীরকে দ্রুত এনার্জি দেয়। তাই ব্যায়ামের আগে বা পরে পাকা কলা অনেকের জন্য উপযোগী।
পাকা কলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণও বেশি থাকে। যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি ছয় এবং ভিটামিন সি হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুর জন্য উপকারী ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনটি ভালো তা নির্ভর করে ব্যক্তির প্রয়োজনের ওপর। যদি কেউ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে চান বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাহলে কাঁচা কলা ভালো। আর দ্রুত শক্তি দরকার হলে পাকা কলা বেশি উপযোগী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে ভরপুর। সঠিক সময় ও পরিমাণে খেলে দুটোই শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ