বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৩৯ এএম
একই তাপমাত্রায় কারও কাছে গরম স্বাভাবিক মনে হলেও অন্য কেউ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ঘাম, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তিতে ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আবহাওয়া নয় শরীরের ভেতরের কিছু শারীরিক সমস্যাও গরম সহ্য করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের ভাষায়, শরীর যদি স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। তাহলে গরম বেশি লাগে এবং অস্বস্তি বাড়ে। এর পেছনে থাকতে পারে বিভিন্ন রোগ ও শারীরিক অবস্থা।
থাইরয়েডের সমস্যা
বিশেষ করে থাইরয়েডের অকারণ অস্থিরতা হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। এতে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয় এবং গরম বেশি অনুভূত হয়। পাশাপাশি ঘামও বাড়ে।
ডায়াবেটিস
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলে স্নায়ু ও ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। ফলে শরীর ঠিকভাবে ঘাম ঝরাতে পারে না এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ
রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক না থাকলে শরীরের তাপ বাইরে বের হতে পারে না। এতে গরমে অস্বস্তি ও ক্লান্তি বাড়ে।
অতিরিক্ত ওজন
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি তাপ ধরে রাখে। ফলে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না এবং দ্রুত ক্লান্তি দেখা দেয়।
রক্তস্বল্পতা
রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও গরমে অস্বস্তি বেশি হয়।
হরমোনের পরিবর্তন
নারীদের মেনোপজের সময় হঠাৎ গরম লাগা বা ঘাম হওয়া সাধারণ সমস্যা। গর্ভাবস্থা বা মাসিক চক্রেও হরমোনের ওঠানামার কারণে গরম সহ্য ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
পানিশূন্যতা
শরীরে পানি কম থাকলে ঘাম কমে যায়। এতে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না এবং গরম বেশি লাগে।
কিছু ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধ শরীরের পানির ভারসাম্য ও তাপ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। ফলে গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে এসব সমস্যায় আক্রান্তদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা পোশাক পরা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া উচিত।
তাদের পরামর্শ, গরমে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সচেতন থাকলে তীব্র গরমেও অনেকটা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরটিভি/জেএমএ