images

লাইফস্টাইল

মরিচা লোহায় হাত-পা কাটলেই কি টিটেনাস টিকা লাগে? 

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:০৭ পিএম

মরিচা ধরা লোহায় কেটে গেলেই কি টিটেনাস টিকা নিতে হবে, এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে। সামান্য ক্ষত হলেও অনেকে দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি সবসময় এতটা সরল নয়।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মরিচার সঙ্গে টিটেনাসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ লোহায় মরিচা থাকলেই সেখানে টিটেনাসের জীবাণু থাকে। এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

আসল কারণ ব্যাকটেরিয়া
টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার হয় ক্লস্ট্রিডিয়াম টেটানি নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে। এই জীবাণু সাধারণত মাটি, ধুলোবালি এবং পশুপাখির মলমূত্রে পাওয়া যায়। এটি দীর্ঘদিন প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে।

তাহলে মরিচা ধরা লোহা কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো লোহার বস্তু দীর্ঘদিন মাটিতে বা নোংরা পরিবেশে থাকলে তাতে মরিচা পড়ে। একই সঙ্গে মাটিতে থাকা জীবাণু সেই বস্তুর গায়ে লেগে যেতে পারে। ফলে ওই বস্তু দিয়ে কেটে গেলে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকে। শুধু মরিচা ধরা লোহা নয়, পরিষ্কার দেখতে হলেও ময়লা বা জীবাণু থাকলে ছুরি, কাঁচ বা কাঁটার মাধ্যমেও টিটেনাস হতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image

রিপোর্ট ঠিক তবু মাথাব্যথার কারণ কী? 

রোগের লক্ষণ
টিটেনাসকে লক-জ বলা হয়। এতে মুখ ও চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে যায়, মুখ খুলতে সমস্যা হয়, গিলতে কষ্ট হয়। পাশাপাশি শরীরে খিঁচুনি, তীব্র ব্যথা ও জ্বর দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

কখন টিকা প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিটেনাস টিকার কার্যকারিতা সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত থাকে। শেষ টিকা নেওয়ার ১০ বছর পার হলে এবং কোনো গভীর ক্ষত হলে দ্রুত বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত। ক্ষতে মাটি বা নোংরা লাগলে ৫ বছরের বেশি সময় হয়ে থাকলেও টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ঘরের ভেতরের পরিষ্কার বস্তুতে সামান্য কেটে গেলে এবং নিয়মিত টিকা নেওয়া থাকলে সাধারণত বড় ঝুঁকি থাকে না।

প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় উপায়
চিকিৎসকদের পরামর্শ, বাগান বা কাজের সময় গ্লাভস ও জুতো ব্যবহার করা উচিত। কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিটেনাস ভয়ংকর হলেও এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। তাই কেটে গেলে অবহেলা না করে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ