মাথাব্যথা হচ্ছে, কিন্তু রক্তপরীক্ষা কিংবা মস্তিষ্কের এমআরআই রিপোর্ট সবই স্বাভাবিক। তবু সমস্যা কমছে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর পেছনে বড় কোনো রোগ নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাসই নীরব কারণ হিসেবে কাজ করে।
মানসিক চাপ
চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ এই ধরনের মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত উদ্বেগ কিংবা ঘুমের ঘাটতি। এসবের প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্রে চাপ পড়ে। যা ধীরে ধীরে মাথাব্যথায় রূপ নেয়। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না, এই চাপই শরীরকে অসুস্থ করে তুলছে।
ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসা
আরেকটি বড় কারণ হলো ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা। কম্পিউটার বা মোবাইলের দিকে ঝুঁকে বসে থাকলে ঘাড় ও কাঁধে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই চাপ স্নায়ুর মাধ্যমে মাথায় গিয়ে ব্যথা তৈরি করতে পারে।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার
বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত স্ক্রিনের ব্যবহারও মাথাব্যথার একটি সাধারণ কারণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারে চোখে চাপ পড়ে। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয় এবং স্নায়ু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যার ফলেও মাথাব্যথা বাড়ে।
অনিয়মিত জীবনযাপন
এছাড়া অনিয়মিত জীবনযাপনও বড় ভূমিকা রাখে। সময়মতো খাবার না খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং কম ঘুম। এসব অভ্যাস শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। যা মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।
সতর্কতা ও করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেই শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ এমনটা ভাবা ঠিক নয়। অনেক সময় শরীর ছোট ছোট লক্ষণের মাধ্যমে সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। কিছু ক্ষেত্রে লুকানো রক্তচাপের সমস্যাও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো, সঠিক ভঙ্গিতে বসা, স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এই ধরনের মাথাব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন মাথাব্যথা চলতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরটিভি/জেএমএ




