শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:০৪ পিএম
বর্তমানে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক প্রবণতা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক জেন-জি তরুণীই সমবয়সী ছেলেদের বদলে বয়সে কিছুটা বড় পুরুষদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে।
কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক জেন-জি তরুণীর গল্প একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই তরুণী সদ্য যৌবনে পা দিয়েছে। আর তার প্রেমিক বয়সে প্রায় দশ বছর বড়। শুরুতে বন্ধুদের কাছ থেকে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাকে। কেউ বলেছে, বড় বয়সী মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করলে নিশ্চয়ই সব আবদার সহজে পূরণ হয়। আবার কেউ মনে করেছে, নিশ্চয়ই অর্থের কারণেই এই সম্পর্ক। কিন্তু এসব কথা সে হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। তার কথায়, বয়স নয় বরং ওই মানুষের সঙ্গে কথা বললে তার মনে হয় সে যেন একটি স্থির জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা নতুন নয়। বহুদিন ধরেই দেখা যায়। অনেক নারী বয়সে কিছুটা বড় পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন। এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো মানসিক পরিপক্বতা। অনেক সময় বয়সে বড় মানুষের মধ্যে জীবনের অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা বেশি থাকে। যা সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করে।
অনেকে মনে করেন, বয়সে বড় মানেই আর্থিক নিশ্চয়তা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থের নয়। আজকের তরুণীরা এমন সঙ্গী চান, যিনি নিজের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থির থাকেন। আর মানসিকভাবে পাশে দাঁড়াতে পারেন।
বর্তমান প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে বড় হয়েছে। ফলে তারা খুব দ্রুত বুঝতে পারে কোথায় মানসিক স্বস্তি রয়েছে আর কোথায় নেই। যে সম্পর্ক তাদের শান্তি দেয়, সেখানেই তারা থাকতে চায়।
তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই যা দিয়ে বলা যায় সব জেন-জি তরুণীই বয়সে বড় পুরুষদের পছন্দ করেন। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার, এখন অনেক নারীর কাছে অর্থের নিশ্চয়তার চেয়ে মানসিক নিরাপত্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সঙ্গী যদি মানসিকভাবে পাশে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে বয়সের পার্থক্য তাদের কাছে কেবলই একটি সংখ্যা।
আরটিভি/জেএমএ