বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:২১ পিএম
কফি অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘুম ভাঙানো থেকে শুরু করে ক্লান্তি দূর করা, সবখানেই এর ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু হঠাৎ কফি ছেড়ে দিলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে। তা নিয়ে মানুষের কৌতূহলও কম নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি ছাড়ার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে প্রথম পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই সময় মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যা দেখা দেয়। মূলত মস্তিষ্কের রক্তনালি পরিবর্তন এবং এক ধরনের রাসায়নিকের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণেই এসব উপসর্গ হয়।
দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কারও কারও ক্ষেত্রে এসব সমস্যার সঙ্গে বমিভাব, শরীর ব্যথা বা সর্দি-জ্বরের মতো অনুভূতিও দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এগুলো স্বাভাবিক সাময়িক প্রতিক্রিয়া।
পরবর্তী তিন থেকে সাত দিনে ধীরে ধীরে উপসর্গ কমতে শুরু করে। এ সময় অনেকের ঘুমের মান উন্নত হতে পারে এবং শরীর কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আসে। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের শরীর প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
দশ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে পরিবর্তন আরও স্থায়ী হতে থাকে। অনেকের শক্তি বৃদ্ধি পায়, মেজাজ স্থির হয় এবং ঘুমের গুণগত মানও উন্নত হয়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময় ধরে সবার ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন ঘটে এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি ছাড়ার পর শরীরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কারও দ্রুত উন্নতি দেখা যায়, আবার কারও সময় বেশি লাগে। জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের ওপরও এর বড় প্রভাব থাকে।
তাই কফি ছাড়লে শরীরে কিছু পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক হলেও, নির্দিষ্ট দিনভিত্তিক পরিবর্তনের ধারণা সব সময় সঠিক নয়। স্বাস্থ্য বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/জেএমএ