সামাজিক মাধ্যমে এখন নতুন নতুন অদ্ভুত সৌন্দর্যচর্চার ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো স্যালমন মাছের শুক্রাণু থেকে নেওয়া উপাদান দিয়ে ত্বকের চিকিৎসা, এমনকি পাখির মল ব্যবহার করে ফেস মাস্ক পর্যন্ত। তবে প্রশ্ন উঠছে, এসব কি সত্যিই কাজ করে, নাকি শুধু ট্রেন্ড?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ক্লিনিকে স্যালমন মাছের জিনগত উপাদান ত্বকের ভেতরের স্তরে ইনজেকশন আকারে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরাসরি সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ত্বকের ভেতরের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
গবেষণায় কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এই উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বক মসৃণ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর প্রমাণ এখনো সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরিয়ায় জনপ্রিয় এই সৌন্দর্যচর্চা এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, সামাজিক মাধ্যম এবং তারকাদের প্রভাবের কারণে। পাশাপাশি ভাইরাল কিছু ট্রেন্ড যেমন পাখির মল দিয়ে ফেস মাস্ক বা রক্ত ব্যবহার করে ফেসিয়ালও আলোচনায় এসেছে।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, সব অদ্ভুত ট্রেন্ডই নিরাপদ নয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উপাদান পরিশোধিত হলেও, সাধারণভাবে এসব নিজে থেকে ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে।
একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইতিহাসে এমন অনেক প্রাচীন সৌন্দর্যচর্চা আছে যেগুলোর কিছু উপকারিতা আধুনিক গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছে। যেমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান এখনো ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রক্ত ব্যবহার করে করা কিছু ফেসিয়াল পদ্ধতিতে ত্বকের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এতে ফলাফল সবসময় একরকম নয় বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নতুন ট্রেন্ড আসলেও সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়া। বিশেষ করে সূর্য থেকে সুরক্ষা, ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন বজায় রাখা।
তাই সৌন্দর্যের এই নতুন ট্রেন্ডগুলো যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, সবকিছুর আগে দরকার বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ যত্ন।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




