বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৬ এএম
অনেকেই মনে করেন বড় আকৃতির স্তন সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় ঠিক উল্টো। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত বড় স্তন নারীদের শরীর ও মনের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
আর্জেন্টিনার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জানান, কৈশোর থেকেই বড় স্তনের কারণে তিনি লজ্জা ও শারীরিক কষ্টে ভুগেছেন। বিষয়টি আড়াল করতে তিনি কুঁজো হয়ে হাঁটতেন। দীর্ঘদিনের সেই অভ্যাস এখনো তার শরীরে ব্যথা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় স্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী পিঠ ও ঘাড় ব্যথা, মাথাব্যথা, দেহভঙ্গির সমস্যা, অবশভাব, এমনকি ঘুমের ব্যাঘাতও হতে পারে। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপও বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমস্যার কারণে অনেক নারী স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করতে পারেন না। অনেক সময় পছন্দের কাজ থেকেও দূরে সরে যেতে হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, বড় স্তন স্বাভাবিকভাবেই ভারী হওয়ায় শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে ঘাড় ও পিঠে চাপ তৈরি হয়। ঠিকমতো সমর্থন দিতে পারে এমন অন্তর্বাস খুঁজে পাওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেক নারীকে একসঙ্গে দুই বা তিনটি অন্তর্বাস পরতে হয়, যা অস্বস্তির পাশাপাশি বাড়তি খরচও বাড়ায়।
বিশ্বজুড়ে স্তনের আকার ছোট করার অস্ত্রোপচারও বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে লাখ লাখ নারী এই অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। কারণ তারা শুধু সৌন্দর্য নয়, স্বস্তি ও সুস্থতা চান।
একজন ভুক্তভোগী জানান, অস্ত্রোপচারের পর তিনি নিজেকে মুক্ত অনুভব করেছেন। দৈনন্দিন কাজ করাও সহজ হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সঠিক মাপের অন্তর্বাস না পরলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এতে ব্যথা বাড়ার পাশাপাশি ত্বক ও শরীরের ভেতরের অংশেও ক্ষতি হতে পারে।
তবে সমাজে এখনো অনেকেই এই বিষয়টিকে শুধুই সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে দেখেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি মূলত একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যা অবহেলা করলে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শরীরের অস্বস্তিকে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে জরুরী।
আরটিভি/জেএমএ