চারদিকে গভীর রাত। নীরবতায় ছেয়ে গেছে চারপাশ। হঠাৎ সেই নীরবতা ভেঙে একটানা অদ্ভুত শব্দ, নাক ডাকা। অনেকের কাছে এটি মজার বিষয় হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি হতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত।
চিকিৎসকদের মতে, নাক ডাকা মূলত গলার পেছনের নরম অংশে বাতাস চলাচলের সময় কম্পন তৈরি হওয়ার কারণে হয়। এই শব্দ কখনো হালকা, আবার কখনো বজ্রের মতো ভারী হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নাক ডাকার শব্দের কম্পন বিভিন্ন মাত্রার হতে পারে। কখনো তা নিচু মাত্রা থেকে শুরু হয়ে অনেক বেশি তীব্রতায় পৌঁছে যায়। মানে এটি একধরনের মিশ্র শব্দ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি নাক ডাকার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তাহলে এটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন, শুধু পুরুষরাই কি নাক ডাকে? গবেষণা বলছে, না। নারীরাও নাক ডাকেন, তবে তুলনামূলকভাবে কম।
তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়মিত নাক ডাকেন। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ২০ থেকে ২৪ শতাংশ। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে, বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের মধ্যেও নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক গঠন ও হরমোনের কারণে নারীদের শ্বাসনালী তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু বয়স বাড়লে এই সুরক্ষা কমে যায়।
চিকিৎসকরা আরও বলছেন, দীর্ঘদিন নাক ডাকা শ্বাসনালী সংকুচিত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি থেকে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে। যা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
বাস্তব জীবনেও এর প্রভাব স্পষ্ট। পুরান ঢাকার এক বাসিন্দা জানান, তার স্বামীর নাক ডাকার শব্দে প্রায়ই ঘুম ভেঙে যায়। কখনো আলাদা ঘরে গিয়ে ঘুমাতে হয়। আবার অনেকেই মজার ছলে বিষয়টি নিলেও পরে বুঝেছেন এটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হালকা নাক ডাকার ক্ষেত্রে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেই উপকার পাওয়া যায়। যেমন—ওজন নিয়ন্ত্রণ, পাশ ফিরে ঘুমানো এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা।
তবে সমস্যা বেশি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ নাক ডাকা শুধু একটি শব্দ নয়। এটি শরীরের ভেতরের বড় সমস্যার সংকেতও হতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



