বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১৩ এএম
মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট আর সামাজিক মাধ্যমের ভিড়ে মানুষের জীবন দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। মোবাইলে স্ক্রল করতে করতে সকাল গড়িয়ে দুপুর, আর নোটিফিকেশনের ভিড়ে হারিয়ে যায় নিজের নিঃশব্দ মুহূর্তগুলোও। এই ব্যস্ততার ভিড়ে প্রশ্নটা তাই একটু চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। শেষ কবে আপনি একাডেমিক বইয়ের বাইরে কোনো বই হাতে নিয়েছিলেন? পাতার গন্ধে, অক্ষরের ভাঁজে, গল্পের ভেতর হারিয়ে গিয়েছিলেন নির্ভারভাবে? উত্তরটা খুঁজতে গিয়ে অনেকেই হয়তো একটু থমকে যান। তারপর আবার সেই একই স্ক্রলে ফিরে যান। যেখানে জীবনটা দ্রুত চলে, কিন্তু থামার সময় খুব কম।
তবু আজ সেই বই নিয়েই নতুন করে আলোচনার দিন। কারণ আজ ২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই দিবস। বিশ্বজুড়ে বই পড়া, বই ছাপানো এবং কপিরাইট সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯৫ সাল থেকে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বই শুধু জ্ঞান নয় এটি মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে। এক সময় হারিয়ে যাওয়া বই পড়ার অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনার জন্য এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইতিহাস বলছে, স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেস প্রথম এই দিবসের ধারণা দেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা দিনটিকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। সঙ্গে ডিমেনশিয়া ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ কমায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, কল্পনাশক্তি ও মনোযোগ উন্নত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বই পড়া শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি মানসিক সুস্থতার জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পড়াশোনা মানুষকে আরও সৃজনশীল ও চিন্তাশীল করে তোলে।
বই এখন শুধু কাগজের পাতা নয়, এটি মানুষের মন ও চিন্তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও বইয়ের সঙ্গে একটু সময় কাটানো হতে পারে মানসিক শান্তির অন্যতম চাবিকাঠি।
আরটিভি/জেএমএ