images

লাইফস্টাইল

তীব্র গরমে জরুরি যে খাদ্যাভ্যাস ও পানীয়

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৩১ পিএম

এই গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনেও আমাদের শরীরে দ্রুত প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। এর ফলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, এমনকি হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এই সময়ে সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস ও পানীয় গ্রহণের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা হওয়া উচিত হালকা, সহজপাচ্য, সতেজ এবং পানি-সমৃদ্ধ। আমরা যেখানে থাকি (অফিসে বা বাসায়) সবসময় কাছে একটি পানির বোতল রাখা ভালো অভ্যাস। একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করলে শরীর ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকে এবং পানির ঘাটতি পূরণ হয়। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ঘরে তৈরি ফলের জুস বা অন্যান্য প্রাকৃতিক পানীয় শরীরকে দ্রুত সতেজ করে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বাইরে থেকে ফিরে বরফ ঠান্ডা পানীয়ের পরিবর্তে প্রাকৃতিক পানীয় গ্রহণ করাই বেশি উপকারী, কারণ এটি শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

খাবারের ক্ষেত্রে ভারী, তেল-মশলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যা গরমের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। দুপুরের খাবারে ভাতের সঙ্গে ডাল, বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং হালকা রান্না করা মাছ বা মুরগি রাখা ভালো। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং হজম প্রক্রিয়াও সহজ হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন শসা, টমেটো, গাজর ও লেটুস দিয়ে তৈরি সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীর ঠান্ডা থাকে, হাইড্রেশন বজায় থাকে এবং সতেজতা অনুভূত হয়।

গরমের সময়ে মৌসুমি ফল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস, পেঁপে ও আমের মতো ফলগুলোতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। এসব ফল শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া দই খাওয়াও এই সময়ে খুব উপকারী, কারণ এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

বিয়ার নিয়ে গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

একবারে বেশি খাবার না খেয়ে দিনে ৪–৫ বার অল্প অল্প করে খাওয়া ভালো। এতে শরীর হালকা থাকে, হজম সহজ হয় এবং গরমজনিত অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়। অতিরিক্ত চা, কফি বা সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেট করতে পারে এবং ক্লান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। বরং এসবের পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি ও প্রাকৃতিক পানীয় গ্রহণ করা বেশি উপকারী।

সবশেষে বলা যায়, এই গরমে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত পানি পান, সুষম ও হালকা খাবার গ্রহণ এবং সচেতন জীবনযাপন অপরিহার্য। ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনই আমাদেরকে এই গরমে আরামদায়ক, সতেজ এবং সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারে।

আরটিভি/এমএইচজে