বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৫৩ পিএম
স্মার্টফোন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্ক্রল করতে করতে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়, তা আমরা টেরই পাই না। এই অভ্যাসটি শুধু আমাদের মূল্যবান সময় কেড়ে নিচ্ছে না, বরং কাজের মনোযোগ এবং ঘুমেরও বড় ক্ষতি করছে।
মনোচিকিৎসক অ্যামি মরিনের মতে, সামাজিক মাধ্যমে অনিশ্চিত প্রতিক্রিয়া, কখনও লাইক বা মন্তব্য পাওয়া, কখনও না পাওয়া, মানুষকে বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনে। এতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওপর মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ৩০ দিনের একটি ডিজিটাল ডিটক্স বা বিরতি আপনার জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো কেমন হতে পারে, তা নিচে দেওয়া হলো--
মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ে
দ্রুত পরিবর্তনশীল কনটেন্টের কারণে মনোযোগ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি কাজে মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়ে।
ঘুমের উন্নতি হয়
রাতে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস কমলে ঘুমের গুণগত মান উন্নত হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে
অন্যদের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা কমে যায়। ফলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও নেতিবাচকতা হ্রাস পায়।
বাস্তব জীবনে সংযোগ বাড়ে
পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। দৈনন্দিন জীবনে উপস্থিতি ও মনোযোগ বাড়ে।
সময়ের সঠিক ব্যবহার শেখা যায়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় হওয়া সময় কমে গিয়ে ব্যক্তিগত কাজ, বিশ্রাম বা সৃজনশীল কাজে সময় দেওয়া সম্ভব হয়।
নতুন অভ্যাস গড়ে ওঠে
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন থেকে চার সপ্তাহ পর অনেকেরই সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের তাগিদ কমে আসে। তবে পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে, তাই নতুন নিয়ম তৈরি করা জরুরি।
আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচকতা বাড়ে
অন্যদের সঙ্গে তুলনা কমে যাওয়ায় নিজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
সব মিলিয়ে, ৩০ দিনের একটি বিরতি শুধু সাময়িক স্বস্তিই নয়, মস্তিষ্ককে নতুনভাবে অভ্যস্ত হতে সাহায্য করে এবং জীবনযাপনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
আরটিভি/এমআই