বয়স থামিয়ে রাখা বা বয়স কমানো শুনতে যেন গল্পের মতো। কিন্তু এখন এটিই হয়ে উঠছে নতুন ব্যবসা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠছে এমন সব কেন্দ্র, যেখানে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে মানুষ চেষ্টা করছেন নিজের বয়সের গতি ধীর করতে।
নিউইয়র্ক ও সান ফ্রান্সিসকোর একটি প্রতিষ্ঠানে একদিনের পরীক্ষা চলতে পারে টানা ছয় ঘণ্টা। সেখানে শরীরের হাজারের বেশি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর কয়েক সপ্তাহ পর দেওয়া হয় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিশ্লেষণ। লক্ষ্য একটাই, আগেভাগে সমস্যা চিহ্নিত করে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা।
খরচ আকাশছোঁয়া
এই ধরনের সেবার খরচ খুব কম নয়। কোথাও কয়েক হাজার টাকার পরীক্ষা, আবার কোথাও কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। এমনকি মাত্র ৪৫ মিনিটের কিছু বিশেষ চিকিৎসার জন্যও দিতে হচ্ছে এক লাখ টাকার বেশি।
হোটেলেও এখন যুক্ত হচ্ছে এসব সেবা। ভ্রমণের ক্লান্তি কাটাতে কিংবা শরীরকে সতেজ রাখতে বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যার খরচও বেশ চড়া।
গবেষণা কী বলছে?
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সব সেবার পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কতটা শক্ত?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে বয়স কমিয়ে দেবে এমন প্রমাণ এখনো নেই। অনেক পদ্ধতি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। কিছু চিকিৎসা যেমন আলো থেরাপি, ঠান্ডা-গরম পানির ব্যবহার বা বিশেষ সনা। এসবের কার্যকারিতা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সেবা অনেকটাই ব্যক্তিগত পরীক্ষার মতো। মানে নিজের ঝুঁকিতে মানুষ এগুলো নিচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা ঠিক নয়।
সহজ পথই আসল সমাধান
চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনো খুব সাধারণ। সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং জীবনে লক্ষ্য রাখা।
নারীদের জন্য বাড়ছে আলাদা সেবা
বিশেষ করে নারীদের জন্য আলাদা সেবা চালু হয়েছে, যেখানে বয়সজনিত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে এখানেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা, অপ্রয়োজনীয় খরচের চাপ তৈরি করা ঠিক নয়।
তৈরি হচ্ছে বৈষম্য
এই খাতে বাড়তি খরচের কারণে সমাজে বৈষম্যের প্রশ্নও উঠছে। ধনী মানুষ যেখানে এসব সুবিধা নিচ্ছেন, সেখানে অনেকেই মৌলিক চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত।
তাই বয়স থামানোর এই নতুন ব্যবসা যতই আকর্ষণীয় হোক, বাস্তবে এখনও এর অনেক কিছুই অনিশ্চিত। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সবচেয়ে নিরাপদ পথ এখনো সহজ জীবনযাপনই।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




