মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৩৭ এএম
ডিজিটাল যুগে সম্পর্ক এখন অনেকটাই চলে এসেছে মোবাইলের পর্দায়। অনেকেই আবেগের বশে মেসেজে কবুল বলে বিয়ের সম্পর্ক গড়ে ফেলছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু ইনবক্সে কবুল বললেই কি সত্যিই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়?
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে শুধু আবেগ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি। এতে নির্দিষ্ট নিয়ম, শর্ত এবং সামাজিক কাঠামো অনুসরণ করা জরুরি।
কুরআনে বিয়ের নির্দেশনা
পবিত্র কুরআনে বিয়েকে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে—
“তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো।” (সূরা আন-নিসা: ৪)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ ও তা প্রদান করা একটি বাধ্যতামূলক বিষয়।
আরও বলা হয়েছে—
“তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের বিয়ে দিয়ে দাও…” (সূরা আন-নূর: ৩২)
এই আয়াতে সমাজে বিয়েকে সহজ ও বৈধভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে বিয়ের শর্ত
নবী করিম (সা.) বলেছেন—
“অভিভাবক ছাড়া কোনো বিয়ে নেই।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)
আরও এসেছে—
“দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়।” (বায়হাকি)
অর্থাৎ, বিয়েতে শুধু দুজনের সম্মতি যথেষ্ট নয়; অভিভাবক ও সাক্ষীর উপস্থিতিও জরুরি।
মেসেজে কবুল কেন যথেষ্ট নয়
অনলাইন বা মেসেজে সাধারণত একই সময়ে প্রক্রিয়াগত কাঠামো থাকে না। সেখানে সাক্ষী উপস্থিত থাকে না, অভিভাবকের সম্মতি নিশ্চিত হয় না এবং আনুষ্ঠানিক পরিবেশও থাকে না। ফলে এটি ধর্মীয় দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না।
ডিজিটাল মাধ্যমে বিয়ে নিয়ে মত
কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও কলের মাধ্যমে সব শর্ত পূরণ হলে বিয়েকে বৈধ ধরা যেতে পারে বলে মত রয়েছে। তবে শুধুমাত্র টেক্সট মেসেজে কবুল বলাকে যথেষ্ট বলা হয়নি। কারণ এতে মৌলিক শর্তগুলো পূরণ হয় না।
আইনি বাস্তবতা
বাংলাদেশে বিয়ের জন্য সরকারি প্রক্রিয়া, কাজীর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করা এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র মেসেজে সম্মতি দেওয়া কোনো আইনি স্বীকৃতি পায় না।
ভুল ধারণার ঝুঁকি
অনেকেই আবেগে মনে করেন, অনলাইনে কবুল বললেই সম্পর্ক দাম্পত্যে পরিণত হয়েছে। এই ধারণা ভবিষ্যতে ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিয়ে কোনো হালকা বা আবেগের সিদ্ধান্ত নয়। ইসলামে বিয়ে একটি পবিত্র ও নিয়মবদ্ধ চুক্তি। তাই ইনবক্সের আবেগ নয়, বরং শরিয়তের সঠিক নিয়ম ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই একটি বৈধ ও নিরাপদ দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি।
আরটিভি/জেএমএ