বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৫৩ এএম
আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো আর বজ্রের শব্দ শোনা গেলেই অনেকেই এটিকে সাধারণ আবহাওয়া পরিবর্তন মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক ঘটনা। সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই এই সময় কী করা যাবে না এটি জানা জরুরি।
গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না
বজ্রপাত সাধারণত আশপাশের সবচেয়ে উঁচু বস্তুকে আঘাত করে। ফলে বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গাছের মাধ্যমে বিদ্যুৎ শরীরে চলে গিয়ে গুরুতর ক্ষতি বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
খোলা জায়গা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে
পার্ক, খেলার মাঠ বা খোলা মাঠে থাকলে বজ্রপাত সরাসরি আঘাত হানার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ সেখানে মানুষই অনেক সময় সবচেয়ে উঁচু বস্তু হয়ে যায়। তাই দ্রুত কোনো নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া উচিত।
মাটিতে শুয়ে পড়া নিরাপদ নয়
অনেকে মনে করেন নিচু হয়ে থাকলে ঝুঁকি কমে। কিন্তু বজ্রপাতের বিদ্যুৎ মাটির ওপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে গ্রাউন্ড কারেন্ট বলা হয়। মাটিতে শুয়ে পড়লে শরীরের বেশি অংশ বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে, যা আরও বিপজ্জনক।
জানালার কাছে থাকা বিপজ্জনক
বজ্রঝড়ের সময় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখা বা বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। জানালার গ্রিল বা ধাতব অংশ বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে, যা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে।
ধাতব জিনিসে অতিরিক্ত মনোযোগ নয়
ঘড়ি, গয়না বা বেল্ট খুলে ফেললে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এটি ভুল ধারণা। এগুলো সরাতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দলবদ্ধভাবে এক জায়গায় থাকা ঠিক নয়
ঝড়ের সময় সবাই একসঙ্গে জড়ো হয়ে থাকলে গ্রাউন্ড কারেন্টের কারণে একসঙ্গে একাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা ভালো।
পোষা প্রাণীকে বাইরে রাখা যাবে না
কুকুর বা বিড়ালকে বাইরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা বা খোলা জায়গায় রাখা বিপজ্জনক। তাদেরও দ্রুত ঘরের ভেতরে নিয়ে আসা উচিত।
৩০-৩০ নিয়ম মেনে চলা ভালো
বিদ্যুৎ চমকানোর পর বজ্রের শব্দ শোনা পর্যন্ত সময় ৩০ সেকেন্ডের কম হলে বুঝতে হবে ঝড় খুব কাছে। আবার ঝড় থেমে গেলেও অন্তত ৩০ মিনিট ঘরে থাকা নিরাপদ।
বজ্রপাতের সময় সঠিক সিদ্ধান্তই জীবন বাঁচাতে পারে। তাই আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে দেখলেই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরটিভি/এসকে