রোববার, ০৩ মে ২০২৬ , ১০:৪০ এএম
শুধু বড়রাই নয়, শিশুরাও ভুগতে পারে মানসিক বিষণ্নতায়—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুর ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেক সময় চুপচাপ থাকে, ধীরে ধীরে বাড়ে। আর অনেক বাবা-মা সেটি বুঝতেই পারেন না।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুর বিষণ্নতা মানে শুধু মন খারাপ থাকা নয়। এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে শিশু দীর্ঘ সময় ধরে দুঃখ, হতাশা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সাধারণ মন খারাপ হলে তা কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে সেটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
শিশুর বিষণ্নতার লক্ষণগুলো শুরুতে খুব সূক্ষ্ম হতে পারে। যেমন—খেলার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, আশপাশের পরিবেশে উৎসাহ না পাওয়া, খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন, ঘুম কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুমানো, এবং অল্পতেই রাগ বা বিরক্ত হয়ে যাওয়া।
এছাড়া অনেক শিশু পেটব্যথা বা মাথাব্যথার মতো শারীরিক সমস্যার কথাও বলে। কারও কারও ক্ষেত্রে একা থাকতে চাওয়া, সামাজিকভাবে দূরে সরে যাওয়া বা হঠাৎ কান্না শুরু করাও দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের বিষণ্নতার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন—পারিবারিক সমস্যা, মানসিক আঘাত, নির্যাতন, শারীরিক অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা বা বংশগত কারণ। যেসব পরিবারের ইতিহাসে মানসিক সমস্যার উপস্থিতি থাকে, সেখানে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গুরুতর ক্ষেত্রে এই বিষণ্নতা শিশুকে আত্মহানির চিন্তার দিকেও ঠেলে দিতে পারে। তাই কিছু সতর্ক সংকেত খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন—অতিরিক্ত একা থাকা, হতাশার কথা বলা, মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করা বা আচরণে বড় পরিবর্তন।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুর বিষণ্নতা নির্ণয়ে বাবা-মা, শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞরা সাক্ষাৎকার, প্রশ্নপত্র ও মানসিক পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চিকিৎসা হিসেবে প্রথম ধাপে সাধারণত মানসিক থেরাপি ব্যবহার করা হয়। এতে শিশুর নেতিবাচক চিন্তা চিহ্নিত করে তা ধীরে ধীরে পরিবর্তন করা হয়। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গান, নাচ বা খেলার মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করাও খুব কার্যকর।
গুরুতর ক্ষেত্রে ওষুধের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক থেরাপি, পরিবারিক সহায়তা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শিশুকে ভালো করে তুলতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুকে ভালোবাসা, নিরাপদ পরিবেশ, স্বাধীনতা এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় রাখাও বিষণ্নতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখলেই অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরটিভি/জেএমএ