শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ১১:১৮ এএম
নিজেকে সুন্দর করে সাজানোর ইচ্ছা মানুষের হাজার বছরের পুরোনো। তবে মেকআপের কোনো নির্দিষ্ট আবিষ্কারকের নাম জানা যায় না। ইতিহাস বলছে, প্রাচীন মিশরেই প্রথম মেকআপ ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
তখন মেকআপ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। কে কত দামী প্রসাধনী ব্যবহার করছে, সেটাই অনেক সময় তার অবস্থান বোঝাত।
প্রাচীন মিশরীয়রা চোখে ঘন কাজল ও সবুজ রঙের ছায়া ব্যবহার করতেন। বিখ্যাত রানী ক্লিওপেট্রার চোখের সাজ আজও ইতিহাসে আলোচিত। সেই সময়ের কাজল শুধু সৌন্দর্য বাড়াত না, সূর্যের তীব্র আলো থেকে চোখকে রক্ষা করত এবং এতে প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক গুণও ছিল।
মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, চোখে কাজল লাগালে অশুভ দৃষ্টি ও রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সবুজ রঙের আইশ্যাডো তৈরি হতো এক ধরনের খনিজ থেকে, যাকে দেবতার আশীর্বাদের প্রতীক মনে করা হতো।
শুধু মেকআপ নয়, ত্বকের যত্নেও তারা ছিলেন বেশ সচেতন। মধু, দুধ, অলিভ অয়েল ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করে তারা ত্বক নরম ও সুরক্ষিত রাখতেন। বিশেষ করে মরুভূমির শুষ্ক আবহাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে।
লিপস্টিকও তৈরি হতো প্রাকৃতিক উপাদান ও রং মিশিয়ে। কখনো কখনো উজ্জ্বল লাল রঙ আনতে নির্দিষ্ট পোকাও ব্যবহার করা হতো। যা আধুনিক সৌন্দর্যচর্চার ইতিহাসে এক চমকপ্রদ তথ্য।
তাই আজকের আধুনিক মেকআপের শিকড় লুকিয়ে আছে হাজার বছরের পুরোনো প্রাচীন মিশরের এই বিস্ময়কর সৌন্দর্যচর্চায়।
আরটিভি/জেএমএ