রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ০১:১৮ পিএম
আজ বিশ্বজুড়ে মা দিবস উদযাপনের দিন। কিন্তু এই দিবসের পেছনে আছে এক নারী, যিনি নিজেই এটি শুরু করেছিলেন—আর পরবর্তী জীবনে এর বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করেছিলেন।
তার নাম আনা জার্ভিস। যুক্তরাষ্ট্রের এই নারী প্রথমবার মায়েদের সম্মানে একটি বিশেষ দিনের ধারণা দেন। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—মায়ের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রকাশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতি বদলে যেতে থাকে।
ভালোবাসা থেকে বাণিজ্যের পথে
আনা জার্ভিস শুরু করা মা দিবস ধীরে ধীরে ফুল, কার্ড ও উপহারের ব্যবসায় পরিণত হয়। এই পরিবর্তন তাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। তার মতে, একটি পবিত্র অনুভূতিকে ব্যবসায়িক লাভের মাধ্যম বানানো হচ্ছে।
এই ক্ষোভ থেকেই তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত মা দিবসের বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যান।
নিজেরই সৃষ্টি করা দিবসের বিরুদ্ধে লড়াই
তিনি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন, রাজনীতিবিদদের চিঠি লেখেন এবং সংবাদপত্রে প্রতিবাদ জানান। এমনকি একাধিক বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও তিনি সরাসরি অবস্থান নেন।
একবার একটি রেস্তোরাঁয় মা দিবস সালাদ নাম দেখে ক্ষোভে তিনি সেটি মাটিতে ফেলে দেন। কারণ তার মতে, মা দিবস কখনোই ব্যবসার পণ্য হতে পারে না।
একা ও সংগ্রামী শেষ জীবন
দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও তিনি সফল হননি। বরং ধীরে ধীরে সমাজ থেকে দূরে সরে যান। শেষ জীবনে তিনি একা, অসুস্থ ও প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় মারা যান।
তবুও তার লড়াই ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে—একজন নারীর আবেগ, বিশ্বাস এবং নীতির জন্য আজীবন সংগ্রাম।
আজকের বাস্তবতা
বর্তমানে মা দিবস বিশ্বের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক উৎসব। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয় উপহার, ফুল ও কার্ড কেনায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আনা জার্ভিস বেঁচে থাকলে হয়তো আজকের এই রূপ দেখে কষ্ট পেতেন, আবার হয়তো বিস্মিতও হতেন। কারণ তার শুরু করা দিনটি আজ বিশ্বজুড়ে এত বড়ভাবে পালিত হচ্ছে।
মা দিবস আজ ভালোবাসার দিন হলেও এর ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি অনুভূতি কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। আর সেই পরিবর্তনের মাঝেই লুকিয়ে আছে আনা জার্ভিসের অদ্ভুত ও করুণ জীবনগল্প।
আরটিভি/জেএমএ