মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ১১:৫৯ এএম
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার বাড়লেও এখনো অনেক মা স্বাভাবিক প্রসবকে বেশি নিরাপদ ও স্বাভাবিক পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে চান। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি নিলে স্বাভাবিক প্রসব অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদভাবে সম্ভব।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত, গাজীপুরের গৃহিণী জান্নাতুল মাওয়া তার তিন সন্তানের জন্মই স্বাভাবিকভাবে দিয়েছেন। প্রথম সন্তানের সময় চিকিৎসকের পরামর্শে শুরুতে অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও পরে আরেক হাসপাতালে গিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের সিদ্ধান্ত হয় এবং সফলভাবে সন্তান জন্ম দেন তিনি।
চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাভাবিক প্রসব নির্ভর করে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক অবস্থা, বয়স, পূর্বের চিকিৎসা ইতিহাস, গর্ভের শিশুর অবস্থানসহ নানা বিষয়ের ওপর।
মানসিক প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো মানসিক প্রস্তুতি। মায়ের মধ্যে ভয় ও দুশ্চিন্তা না রেখে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে বলেন, প্রসূতি মাকে আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। স্বাভাবিক প্রসব নিতে পারবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তের জন্য মানসিক স্থিরতা জরুরি।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচারের জন্য পরিবারকেও আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি
গর্ভাবস্থায় সুষম খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজন, দুই অবস্থাই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—
সঠিক খাদ্যাভ্যাস মায়ের শরীরকে শক্তিশালী রাখে এবং স্বাভাবিক প্রসব সহজ করতে সাহায্য করে।
নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম
চিকিৎসকদের মতে, হালকা শারীরিক পরিশ্রম স্বাভাবিক প্রসবকে সহজ করে।
পরামর্শ দেওয়া ব্যায়ামগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এছাড়া পেরিনিয়াল ম্যাসাজ প্রসবপথকে শিথিল করতে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রসব পরিকল্পনা থাকা জরুরি
চিকিৎসকরা বলেন, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রসব পরিকল্পনা থাকা দরকার। এর মধ্যে থাকতে হবে—
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবকালীন সময় এক থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে, তাই হাসপাতাল ও চিকিৎসা সহায়তা প্রস্তুত রাখা জরুরি।
স্বাভাবিক প্রসব একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর পদ্ধতি হলেও এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজন সঠিক মানসিক প্রস্তুতি, পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক প্রসব নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে মা ও শিশুর জন্য।
আরটিভি/জেএমএ