বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০৯:৩৮ এএম
শরীরের ভেতরে শুধু কোষ নয়—লুকিয়ে আছে হাজারো ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসের এক জটিল ইকোসিস্টেম। বিশেষ করে যোনির ভেতরের এই মাইক্রোবায়োম শুধু সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় না, বরং গর্ভধারণ, গর্ভকালীন সুস্থতা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভেতরের ব্যাকটেরিয়ার জগৎকে যদি ভারসাম্যপূর্ণ রাখা যায়, তবে তা নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে, যোনির ভেতরে যখন ল্যাক্টোব্যাসিলাস নামের ভালো ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে, তখন সংক্রমণ, বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত, অকাল প্রসব এবং এমনকি কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।
এই ব্যাকটেরিয়াগুলো ক্ষতিকর জীবাণুকে জায়গা নিতে বাধা দেয়, রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং এমন পরিবেশ তৈরি করে যেখানে রোগজীবাণু টিকে থাকতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন এই ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন যোনির স্বাভাবিক সুরক্ষা ভেঙে পড়ে। ফলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, ছত্রাকজনিত সংক্রমণ এবং যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব নারীর ল্যাক্টোব্যাসিলাস কম থাকে, তাদের গর্ভধারণে সমস্যা, গর্ভপাত, এমনকি অকাল প্রসবের ঝুঁকিও বেশি হতে পারে।
একজন গবেষকের ভাষায়, যোনির এই মাইক্রোবায়োমকে একটি বনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। স্বাস্থ্যকর বনে যেমন আগাছা সহজে বাড়তে পারে না, তেমনি ভারসাম্যপূর্ণ মাইক্রোবায়োম থাকলে ক্ষতিকর জীবাণু সহজে সংক্রমণ ঘটাতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ঠিক রাখতে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ—পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং অযথা ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার রাসায়নিক ব্যবহার না করা।
অন্যদিকে অতিরিক্ত পরিষ্কার করার অভ্যাস, ক্ষতিকর স্প্রে বা রাসায়নিক ব্যবহার, ধূমপান এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে।
গবেষকরা এখন চেষ্টা করছেন, এই মাইক্রোবায়োম বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্ব বা সংক্রমণের ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করতে।
বিজ্ঞান বলছে, নারীর শরীরের এই অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া জঙ্গল শুধু ভেতরের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ