আপনি কী খাচ্ছেন, তার প্রভাব শুধু শরীরের ভেতরে নয়—বরং আপনার গায়ের গন্ধেও পড়ে। রসুন, মাংস, অ্যালকোহল, এমনকি উপবাসও বদলে দিতে পারে শরীরের ঘ্রাণ, যা অন্যদের কাছে আপনাকে আরও আকর্ষণীয় বা কম আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি মানুষেরই আলাদা একটি শরীরের গন্ধ থাকে, ঠিক আঙুলের ছাপের মতো। এই গন্ধ শুধু জিন বা হরমোন নয়। খাবার, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ওপরও নির্ভর করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার হজম হওয়ার পর কিছু রাসায়নিক উপাদান শরীরের ভেতর থেকে ঘাম ও শ্বাসের মাধ্যমে বের হয়ে আসে। এগুলোই মূলত শরীরের গন্ধ তৈরি করে। কিছু খাবার এই গন্ধকে তীব্র বা অস্বস্তিকর করে তোলে। আবার কিছু খাবার তা আকর্ষণীয়ও করে তুলতে পারে।
রসুন ও পেঁয়াজের মতো খাবারে থাকা সালফার যৌগ শরীরের ঘাম ও শ্বাসে তীব্র গন্ধ তৈরি করে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে রসুন খাওয়া পুরুষদের শরীরের গন্ধ নারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।
অন্যদিকে সবজি ও ফলমূল বেশি খেলে শরীরের গন্ধ তুলনামূলকভাবে মিষ্টি ও ফুলের মতো হয় বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে।
মাংস ও মাছ খাওয়ার অভ্যাসও শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাংস কম খাওয়া ব্যক্তিদের শরীরের গন্ধ বেশি হালকা ও আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।
অ্যালকোহল শরীরে ভাঙার সময় এমন একটি যৌগ তৈরি করে, যা মুখ ও ঘামে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। একইভাবে বেশি কফি খেলে ঘামগ্রন্থি সক্রিয় হয়ে শরীরের গন্ধ আরও তীব্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের গন্ধকে প্রভাবিত করে এমন অনেক বিষয় এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটা স্পষ্ট যে, আমাদের খাবারের অভ্যাস শুধু স্বাস্থ্য নয়, সামাজিক আকর্ষণেও ভূমিকা রাখে।
গবেষকরা বলছেন, মানুষের শরীরের গন্ধের সঙ্গে আকর্ষণের সম্পর্ক জটিল এবং এক কথায় ব্যাখ্যা করা যায় না—তবুও খাবারের প্রভাব এতে বড় ভূমিকা রাখে।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




