বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ১২:৩৯ পিএম
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার ঘাটতি নতুন কিছু নয়। এখনো অনেকেই মানসিক সমস্যা, বিশেষ করে শুচিবায়ুকে ভুলভাবে পাগলামী বা অস্বাভাবিক আচরণ হিসেবে দেখে থাকেন। ফলে অনেক রোগীই লজ্জা ও ভয়ের কারণে চিকিৎসকের কাছে যান না।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে এর মধ্যে খুব অল্প অংশ জটিল পর্যায়ে পৌঁছায়।
চিকিৎসকদের মতে, ধীরে ধীরে সচেতনতা বাড়লেও এখনো অধিকাংশ মানুষ মানসিক সমস্যা নিয়ে উদাসীন।
শুচিবায়ু কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুচিবায়ু বা এক ধরনের মানসিক রোগে মানুষ একই কাজ বারবার করতে বাধ্য বোধ করেন। যেমন—একই জিনিস বারবার চেক করা, বারবার হাত ধোয়া বা কোনো কাজ শেষ হয়েছে কিনা তা নিয়ে অস্থির থাকা।
রোগীরা নিজেরাও বুঝতে পারেন যে এসব চিন্তা অযৌক্তিক, তবুও তারা তা থামাতে পারেন না।
দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই কাজ করতে থাকেন। এতে তাদের দৈনন্দিন কাজের গতি কমে যায়। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় এবং মানসিক চাপ বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, এই রোগীরা প্রায়ই উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং খিটখিটে মেজাজের সমস্যায় ভোগেন।
নারীদের মধ্যে প্রবণতা বেশি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের মধ্যে এই সমস্যার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ মানসিক রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার অবস্থান শীর্ষ পাঁচের মধ্যেই রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শুচিবায়ু কোনো সাধারণ অভ্যাস নয়—এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতা থাকলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তাই অস্বাভাবিক বারবার কাজ করা বা অস্থিরতা দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ