দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অনেকেই হঠাৎ করে খিটখিটে হয়ে পড়েন, সামান্য বিষয়েই রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এই অভিজ্ঞতা প্রায় সবার জীবনেই একবার না একবার ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে আছে শরীরের ভেতরের জটিল জৈবিক প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে রক্তে চিনি বা গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্ক ও শরীর আচরণ বদলে ফেলে।
মস্তিষ্কের জ্বালানি কমে গেলে কী হয়
গ্লুকোজ হলো শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। বিশেষ করে মস্তিষ্ক প্রায় পুরোপুরি এর ওপর নির্ভরশীল। যখন দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা হয়, তখন মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত শক্তি পায় না। এর ফলে দেখা দেয় দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং সহজেই বিরক্ত হয়ে পড়া।
হরমোনের খেলা: রাগ কেন বাড়ে
ক্ষুধার সময় শরীরে একাধিক হরমোন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে একটি হলো ঘ্রেলিন, যা ক্ষুধার অনুভূতি তৈরি করে। একই সঙ্গে চাপের হরমোন কর্টিসলও বেড়ে যায়।
এই কর্টিসল রক্তে চিনি বাড়ানোর চেষ্টা করে শরীরকে শক্তি দেওয়ার জন্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিকগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
ফলে সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো “ভালো লাগার” উপাদান কমে যায়। তখন মানুষ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রাগী, অস্থির ও খিটখিটে হয়ে পড়ে।
শুধু মানুষ নয়, প্রাণীর আচরণও বদলায়
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু মানুষ নয়—অনেক প্রাণীও ক্ষুধার সময় বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ এটি একটি প্রাকৃতিক ও বিবর্তনগত আচরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন সময়ে খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে আক্রমণাত্মক হওয়া ছিল টিকে থাকার একটি কৌশল। সেই প্রভাব আজও মানুষের শরীরে রয়ে গেছে।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হালকা খাবার গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজ স্থিতিশীল থাকে এবং মেজাজও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
যখনই অস্বাভাবিক রাগ বা বিরক্তি অনুভব হয়, তখন প্রথমে ভাবা উচিত—এটি কি আসলে ক্ষুধার প্রভাব?
ক্ষুধা শুধু পেটের বিষয় নয়, এটি সরাসরি মস্তিষ্ক ও আবেগকে প্রভাবিত করে। তাই সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ শুধু শরীর নয়, মনকেও ভারসাম্যে রাখে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ



