বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০১:৫০ পিএম
বাজারে গেলে সাধারণত দুই ধরনের মুরগির ডিম দেখা যায়—সাদা খোলসের ডিম আর লাল খোলসের ডিম। অনেকেই মনে করেন, লাল ডিমের দাম বেশি হওয়ায় এর পুষ্টিগুণও বেশি। আবার কেউ কেউ বলেন, সাদা ডিমই বেশি ভালো। তবে আসল সত্য কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমের খোলসের রঙের সঙ্গে পুষ্টিগুণের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ সাদা ও লাল—দুই ধরনের ডিমের পুষ্টিমান প্রায় একই।
ডিমের রং আলাদা হয় কেন?
ডিমের রং মূলত নির্ভর করে মুরগির জাত ও জিনের ওপর। সাধারণত সাদা পালকের মুরগি সাদা ডিম পাড়ে আর গাঢ় রঙের মুরগি লাল বা বাদামি ডিম দেয়।
গবেষকদের মতে, ডিম তৈরির একেবারে শেষ পর্যায়ে মুরগির শরীর থেকে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ খোলসের ওপর যুক্ত হয়। এর কারণেই ডিমের রং লাল বা বাদামি দেখায়।
পুষ্টিতে কি পার্থক্য আছে?
পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খোলসের রং দেখে ডিমের পুষ্টি বিচার করা ঠিক নয়। সাদা ও লাল দুই ধরনের ডিমেই প্রায় সমান পরিমাণ শক্তি, প্রোটিন ও চর্বি থাকে।
তবে কিছু গবেষণায় লাল ডিমে সামান্য বেশি ওমেগা চর্বির কথা বলা হলেও সেই পার্থক্য খুবই কম।
আসল পার্থক্য কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে মুরগি কী খাচ্ছে এবং কী পরিবেশে বড় হচ্ছে তার ওপর।
যেসব মুরগি প্রাকৃতিক খাবার খায়, রোদে থাকে ও খোলা পরিবেশে ঘোরাফেরা করে, তাদের ডিমে কিছু ভিটামিন ও খনিজ বেশি থাকতে পারে।
অন্যদিকে উন্নত খাবার খাওয়ানো খামারের মুরগির ডিমেও অনেক সময় ভালো পুষ্টি পাওয়া যায়।
কুসুমের রঙ গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমের খোলস নয়—বরং কুসুমের রঙ কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ। কুসুম যত গাঢ় হয়, তত বেশি ভিটামিন ও খনিজ থাকার সম্ভাবনা থাকে। এই রঙও নির্ভর করে মুরগির খাবারের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডিমের রং দেখে ভালো-মন্দ বিচার করার সুযোগ নেই। সাদা বা লাল—দুই ধরনের ডিমই পুষ্টিকর।
তাই ডিম কেনার সময় রঙ নয়, বরং ডিমের সতেজতা ও মুরগির খাদ্যাভ্যাসের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ