শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ১১:৪৫ এএম
লবণ আমাদের প্রতিদিনের খাবারের অন্যতম প্রধান উপাদান। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ায় এবং শরীরে সোডিয়াম সরবরাহ করে। যা স্নায়ু ও কোষের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ গ্রামের কম লবণ খাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ এই সীমার প্রায় দ্বিগুণ লবণ গ্রহণ করে থাকেন। এর বড় অংশ আসে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। যা পরবর্তীতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি কিডনি রোগ, হাড় ক্ষয়, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা এবং শরীরে পানিশূন্যতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, সস, পিজ্জা, ফাস্টফুড, ক্যানজাত খাবার এবং নানা ধরনের সসেজ ও পনিরে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব খাবার খেতে লবণাক্ত না লাগলেও শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে লবণ গ্রহণ আরও সীমিত হওয়া উচিত। কারণ তাদের কিডনি পূর্ণভাবে বিকশিত নয়। অন্যদিকে গর্ভবতী নারী ও কিডনি রোগীদের জন্য অতিরিক্ত লবণ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ শুধু রক্তচাপই বাড়ায় না, বরং হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
তবে লবণ সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াও ঠিক নয়। শরীরের জন্য অল্প পরিমাণ সোডিয়াম প্রয়োজনীয়। তাই ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
লবণ কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, ঘরে রান্না করা খাবার বেশি খাওয়া, লবণের পরিবর্তে মশলা, লেবুর রস ও প্রাকৃতিক স্বাদ ব্যবহার করা এবং খাবার কেনার সময় প্যাকেটের লেবেল দেখে নেওয়া।
লবণ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ নীরব বিপদের কারণ হতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে সচেতনভাবে লবণ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ