বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় চা শুধু অভ্যাস নয়, গবেষণা বলছে এটি শরীর ও মনের জন্যও বেশ উপকারী। পানি ছাড়া বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পান করা এই পানীয় ক্লান্তি দূর করা থেকে শুরু করে মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে।
চায়ের মূল উপাদান আসে চা গাছের পাতা থেকে। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। কফির তুলনায় চায়ে ক্যাফেইনের পরিমাণ কম হওয়ায় এটি অনেকের কাছে বেশি সহনীয় ও আরামদায়ক পানীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান করলে মনোযোগ বাড়ে এবং স্নায়ু শান্ত থাকে। এতে থাকা উপাদান শরীরের ক্ষতিকর উপাদান কমাতে সাহায্য করে। ফলে মানসিক চাপ কিছুটা হ্রাস পায়। প্রতিদিন কয়েক কাপ চা পানকারীদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হার্টের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও চায়ের ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত চা পানকারীদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। পাশাপাশি কিছু গবেষণা বলছে, নিয়মিত চা পান সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকিও কিছুটা কমাতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত চা পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ঘুমের সমস্যা, শরীরে পানিশূন্যতা, হজমের সমস্যা এবং উদ্বেগ বাড়তে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত চা পান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চা নিয়ে আরেকটি প্রধান দিক হলো এর সঠিক সময় ও পরিমাণ। খাবারের সঙ্গে সঙ্গে নয়, বরং কিছু সময় বিরতি দিয়ে চা পান করাই ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দুধ বা চিনি মিশিয়ে অতিরিক্ত চা পান কিছু উপকার কমিয়ে দিতে পারে বলেও মত রয়েছে।
তাই চা যতটা জনপ্রিয়, ততটাই আলোচিত এর স্বাস্থ্যগুণ ও সতর্কতার দিক নিয়ে। পরিমিত চা পান করলে এটি হতে পারে শরীর ও মনের জন্য উপকারী একটি অভ্যাস।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ




