শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০২:৪৩ পিএম
বিশ্বজুড়ে দেখা যায়, নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় বেশি বছর বাঁচেন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ছিল প্রায় ৭২ বছর। তবে নারী ও পুরুষের আলাদা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর দুই মাস, যেখানে পুরুষদের গড় আয়ু প্রায় ৬৯ বছর আট মাস। অর্থাৎ গড়ে নারীরা পুরুষদের তুলনায় কয়েক বছর বেশি বাঁচেন। একই সঙ্গে শতবর্ষী মানুষের মধ্যেও নারীদের সংখ্যাই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
জিনগত কারণেই কি এই পার্থক্য?
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের জিনগত গঠন এই পার্থক্যের একটি বড় কারণ। নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে, যেখানে পুরুষদের থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। ফলে নারীদের শরীরে জিনগত ত্রুটি হলে অন্য ক্রোমোজোমটি তা অনেক সময় সামলে নেয়। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই ব্যাকআপ থাকে না।
ভ্রূণ অবস্থাতেই শুরু হয় পার্থক্য
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ভ্রূণের মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। জন্মের সময়ও ছেলে শিশুদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে—বড় আকার, জটিল প্রসব এবং অন্যান্য শারীরিক কারণে।
হরমোনের প্রভাব
পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেশি থাকে। যা শক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের সঙ্গে যুক্ত। এর কারণে অনেক সময় তারা দ্রুতগামী জীবনযাপন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বা দুর্ঘটনায় বেশি আক্রান্ত হন।
অন্যদিকে নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হৃদযন্ত্র রক্ষা করে এবং ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় জানা যায়।
জীবনযাপনও বড় কারণ
ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও অনিয়মিত জীবনযাপন পুরুষদের আয়ু কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কিছু দেশে পুরুষদের মধ্যে এসব অভ্যাস বেশি হওয়ায় তাদের গড় আয়ু কমে যায়।
তবে নারীরা কি পুরোপুরি সুস্থ থাকেন?
গবেষণায় দেখা যায়, নারীরা বেশি দিন বাঁচলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘ সময় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগেন এবং চিকিৎসা বেশি নেন। অর্থাৎ আয়ু বেশি হলেও স্বাস্থ্য সব সময় ভালো থাকে না।
ভবিষ্যতে কি পার্থক্য কমবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত চিকিৎসা, হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার উন্নতির কারণে নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসছে। ভবিষ্যতে এই পার্থক্য আরও কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের এই পার্থক্য শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং এর পেছনে জড়িয়ে আছে জিন, হরমোন, জীবনযাপন ও সামাজিক আচরণের জটিল সমন্বয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ