হঠাৎ করে শরীরের কোনো অংশে তীব্র ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া বা নড়াচড়া করতে না পারা—এগুলোই সাধারণভাবে মাংসপেশিতে টান বা মচকানোর লক্ষণ। চিকিৎসকদের ভাষায় একে মাংসপেশির টান, খিঁচুনি বা আঘাতজনিত সমস্যা বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা বা ব্যায়ামের আগে শরীর প্রস্তুত না করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় এক ভঙ্গিতে বসে থাকা, কম পানি পান করা এবং শরীরে লবণ ও খনিজের ঘাটতিও এর বড় কারণ।
যারা খেলাধুলা করেন বা ভারী কাজ করেন, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়। আবার অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা গাড়ি চালানোর কাজের সঙ্গেও এই ঝুঁকি জড়িয়ে আছে।
কীভাবে বুঝবেন মাংসপেশিতে টান পড়েছে
- হঠাৎ তীব্র ব্যথা হওয়া
- আক্রান্ত জায়গা শক্ত হয়ে যাওয়া
- ফুলে ওঠা বা লালচে ভাব দেখা দেওয়া
- ওজন নিতে বা নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া
- মাংসপেশি অস্বাভাবিকভাবে শক্ত হয়ে থাকা
প্রথমেই কী করবেন
মাংসপেশিতে টান পড়লে শুরুতেই বিশ্রাম সবচেয়ে জরুরি। ব্যথা থাকা অবস্থায় কোনো কাজ বা চাপ দেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞরা প্রথম কয়েকদিন চার ধাপের একটি সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন—
বিশ্রাম: আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে বিশ্রামে রাখতে হবে
ঠান্ডা সেঁক: কয়েক ঘণ্টা পরপর ঠান্ডা কাপড় বা বরফ ব্যবহার করতে হবে
চাপ দিয়ে রাখা: ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা করে বেঁধে রাখা যেতে পারে
উঁচু করে রাখা: ব্যথার জায়গাটি বালিশের ওপর তুলে রাখতে হবে
এই সময় গরম সেঁক বা মালিশ করা একদমই ঠিক নয়। এতে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যদি ব্যথা কয়েক দিনের মধ্যে না কমে, ফুলে যাওয়া বাড়তে থাকে, শরীরে দুর্বলতা আসে বা নড়াচড়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়—তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অনেক ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়। গুরুতর হলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাও লাগতে পারে।
কীভাবে এড়াবেন এই সমস্যা
- যেকোনো কাজের আগে শরীর গরম করে নেওয়া
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা
- দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে না থাকা
- পর্যাপ্ত পানি পান করা
- ভারী কিছু তোলার সময় সতর্ক থাকা
মাংসপেশিতে টান সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে এটি বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে। একটু সচেতন থাকলেই এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা অনেকাংশে এড়িয়ে চলা সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ




