images

লাইফস্টাইল / পরামর্শ

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার সহজ উপায় 

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ০১:০৭ পিএম

গরম এলেই শুরু হয় আমের মৌসুম। বাজারে হিমসাগর, গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া—বিভিন্ন জাতের রসালো আমে ভরে ওঠে দোকানগুলো। এসব আমের মিষ্টি ঘ্রাণ আর রসালো স্বাদ ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকর্ষণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বাজারের কিছু আম দ্রুত পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

লাভের আশায় অনেক ব্যবসায়ী কাঁচা আম দ্রুত পাকাতে ব্যবহার করেন ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামের রাসায়নিক। এটি আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে গ্যাস তৈরি করে, যার ফলে আম দ্রুত হলুদ হয়ে যায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় আর্সেনিক ও ফসফরাসজাতীয় বিষাক্ত উপাদানের ঝুঁকি থেকে যায়। যা শরীরে ঢুকলে বমি, পেটের সমস্যা, ত্বকের জটিলতা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেখতে সুন্দর হলেই সেই আম নিরাপদ এমন ধারণা ভুল। তাই আম কেনার সময় কিছু সহজ লক্ষণ দেখে আসল ও কৃত্রিমভাবে পাকানো আম আলাদা করা যায়।

আরও পড়ুন
Web-Image

সর্দি-কাশিতে বন্ধ নাক খুলতে পারে ধনিয়া

প্রথমত, প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে রঙ সব জায়গায় সমান থাকে না—হলুদ ও সবুজের মিশ্রণ দেখা যায়। কিন্তু রাসায়নিক দেওয়া আম অস্বাভাবিকভাবে একরঙা ও ঝকঝকে দেখায়।

দ্বিতীয়ত, ঘ্রাণ গুরুত্বপূর্ণ। আসল আমের বোঁটার কাছে গেলে মিষ্টি সুবাস পাওয়া যায়। কিন্তু কৃত্রিম আমে সেই সুগন্ধ থাকে না বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে।

তৃতীয়ত, কাটার পর ভেতরের রংও ইঙ্গিত দেয়। প্রাকৃতিক আম ভেতরে গাঢ় হলুদ ও নরম হয়। কিন্তু কৃত্রিম আম অনেক সময় ফ্যাকাশে বা শক্ত লাগে।

চতুর্থত, পানির পরীক্ষায় পার্থক্য ধরা পড়ে—অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম আম পানিতে ভেসে থাকে, আর প্রাকৃতিক আম ডুবে যায়।

পঞ্চমত, প্রাকৃতিক আমে সামান্য দাগ বা অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। কিন্তু কৃত্রিম আম সাধারণত অতিরিক্ত নিখুঁত ও চকচকে দেখায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আম খাওয়ার আগে অন্তত কয়েক ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভালো। এতে বাইরের ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ কিছুটা কমে যায়। এছাড়া কাঁচা আম কিনে ঘরে প্রাকৃতিকভাবে পাকানো—যেমন কাগজে মুড়ে বা চালের ভেতর রেখে পাকানো সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয়।

গরমের এই মৌসুমে আমের স্বাদ উপভোগ করতে হলে প্রয়োজন একটু সচেতনতা। কারণ সব রঙিন আমই যে নিরাপদ নয়—এই সত্যটা ভুলে গেলে আনন্দের বদলে বিপদও আসতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ