মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১১:৩৬ এএম
হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারালেন, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল বা হার্ট কাজ করা বন্ধ করল—এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে নেওয়ার আগের কয়েক মিনিটই হয়ে উঠতে পারে জীবন-মৃত্যুর সময়। চিকিৎসকদের মতে, এই মুহূর্তে একটি জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক সময় জীবন বাঁচাতে পারে।
এই পদ্ধতির নাম সিপিআর, অর্থাৎ হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস পুনরায় সচল করার কৌশল।
সিপিআর কী
সিপিআর হলো এমন একটি জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে বুকের ওপর চাপ দিয়ে এবং মুখে কৃত্রিম শ্বাস দিয়ে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ ও রক্ত সঞ্চালন চালু রাখার চেষ্টা করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বা স্বাভাবিক শ্বাস বন্ধ হলে দ্রুত সিপিআর দিলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
কখন সিপিআর দিতে হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ যদি অচেতন হয়ে পড়ে, নিঃশ্বাস না নেয় বা হার্টবিট না থাকে, তাহলে দ্রুত সিপিআর শুরু করতে হবে এবং জরুরি সেবায় ফোন করতে হবে।
হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে সাধারণত মাত্র কয়েক মিনিট সময় পাওয়া যায়। এর মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কেন সিপিআর গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসকদের মতে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট যেকোনো মানুষের হতে পারে হৃদরোগী হোক বা না হোক।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিতে ডুবে যাওয়া, গুরুতর আঘাত বা হঠাৎ জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ সময় দ্রুত সিপিআর শুরু করলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হয়।
সিপিআরের মূল ধাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে পরিবেশ নিরাপদ কি না। এরপর ব্যক্তির সাড়া আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে।
যদি সাড়া না মেলে এবং নিঃশ্বাস না থাকে, তাহলে জরুরি সেবায় ফোন করে দ্রুত বুকের মধ্যখানে দুই হাত দিয়ে জোরে চাপ দিতে হবে।
প্রতি মিনিটে প্রায় শত থেকে একশ কুড়ি বার চাপ দিতে হয় এবং মাঝে মধ্যে কৃত্রিম শ্বাস দিতে হয়।
এই প্রক্রিয়া অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসা সহায়তা আসা পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে
শিশুদের সিপিআরেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়, তবে তাদের ক্ষেত্রে হাতের চাপ ও পদ্ধতিতে কিছু ভিন্নতা থাকে।
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে চাপের গভীরতা তুলনামূলক কম রাখতে হয় এবং বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিপিআর শুধু চিকিৎসকদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষেরও জানা থাকা উচিত একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা। কারণ জরুরি মুহূর্তে এই একটিই জ্ঞান অনেক সময় একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ