মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০২:২৩ পিএম
ঘি, মাখন, গরুর মাংসের চর্বি নাকি অলিভ অয়েল ও সূর্যমুখী তেল—স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার কারণে এই প্রশ্ন আরও বেশি সামনে আসছে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, শরীরের জন্য চর্বি বা ফ্যাট প্রয়োজন হলেও সব ধরনের ফ্যাট এক রকম নয়। কিছু ফ্যাট শরীরের জন্য উপকারী, আবার কিছু ফ্যাট অতিরিক্ত খেলে হৃদরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফ্যাট শরীরের শক্তির অন্যতম উৎস। এটি শরীরে ভিটামিন শোষণে সাহায্য করে, হরমোন তৈরি করে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোন উৎস থেকে ফ্যাট গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাট মূলত দুই ধরনের—সম্পৃক্ত ফ্যাট এবং অসম্পৃক্ত ফ্যাট। সম্পৃক্ত ফ্যাট বেশি পাওয়া যায় ঘি, মাখন, গরু-খাসির মাংসের চর্বি বা ফ্যাট, পনির, ক্রিম ও বিভিন্ন প্রাণিজ খাদ্যে। অন্যদিকে অসম্পৃক্ত ফ্যাট পাওয়া যায় জলপাই তেল, সূর্যমুখী তেল, বাদাম, বীজজাতীয় খাবার এবং সামুদ্রিক মাছ থেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সায়েদুল আরেফিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, উদ্ভিজ্জ উৎসের চর্বি বা ফ্যাট প্রাণিজ চর্বির তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ প্রাণিজ ফ্যাটে সম্পৃক্ত ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে, যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
অন্যদিকে অলিভ অয়েল, বাদাম ও চিনাবাদামে থাকা এক ধরনের উপকারী ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। এটি রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সূর্যমুখী তেল ও সামুদ্রিক মাছে থাকা আরেক ধরনের ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।
গবেষণাতেও উদ্ভিজ্জ ফ্যাটের পক্ষে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণে উদ্ভিজ্জ ফ্যাট গ্রহণ করেন, তাদের হৃদরোগ ও অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রাণিজ ফ্যাট গ্রহণকারীদের মধ্যে এসব ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণিজ খাদ্য সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গরু বা খাসির মাংস প্রোটিন, আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণের ভালো উৎস। তবে মাংস খাওয়ার সময় অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট ফেলে দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় অনেকেই অতিরিক্ত মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার খান। এতে হজমের সমস্যা, গ্যাস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রান্নায় পরিমিত তেল ব্যবহার, চর্বি কম খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ফলমূল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
সুস্থ থাকতে হলে ঘি বা মাখনের ওপর নির্ভর না করে উদ্ভিজ্জ তেলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই ভালো। আর যেকোনো ধরনের চর্বি বা ফ্যাট পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
আরটিভি/জেএমএ