গ্রীষ্মের মৌসুম এলেই বাজারে রাজশাহীর লিচুর রসালো উপস্থিতি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। মিষ্টি স্বাদ আর রসাল গুণের কারণে রাজশাহীর লিচুর আলাদা সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। তবে এবার বাজারে অপরিপক্ব, কৃত্রিম রঙ করা এবং পোকামাকড় আক্রান্ত লিচু বিক্রির অভিযোগে ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
বাজারে বাহ্যিকভাবে টাটকা দেখালেও অনেক ক্ষেত্রে ভেতরে নষ্ট বা কম মানের লিচু পাওয়ার অভিযোগও মিলছে। এতে বাহ্যিক সৌন্দর্যে ভুলে গিয়ে অনেক ক্রেতাই প্রতারিত হচ্ছেন।
স্থানীয় বাগান মালিকদের মতে, ভালো লিচু চেনার জন্য কিছু সহজ লক্ষণ খেয়াল করলেই ভেজাল বা নিম্নমানের ফল এড়িয়ে চলা সম্ভব।
ভালো লিচু চেনার সহজ উপায়
- স্বাভাবিকভাবে হালকা লাল বা গোলাপি রঙের লিচু সাধারণত পাকা ও ভালো হয়
- একেবারে সবুজ লিচু কাঁচা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
- হাতে হালকা চাপ দিলে পাকা লিচু সামান্য নরম অনুভূত হয়
- অতিরিক্ত নরম হলে সেটি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে
- ভালো লিচুতে মিষ্টি ও সতেজ ঘ্রাণ থাকে
- টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে সেটি নিম্নমানের হতে পারে
- বড় ও পরিপুষ্ট লিচু সাধারণত বেশি রসালো ও মিষ্টি হয়
পোকামাকড় আক্রান্ত লিচু চেনার উপায়
- খোসায় ছোট ছিদ্র বা কালো দাগ থাকলে এড়িয়ে চলুন
- বাদামি দাগ বা অস্বাভাবিক শুকনো ভাব থাকলে সেটি ভালো নয়
- ডাঁটার গোড়ায় পচনের চিহ্ন থাকলে সেটি সংক্রমিত হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, লিচু কেনার সময় খোসা, ডাঁটা ও কয়েকটি ফল খুলে ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত। ফেটে যাওয়া, কুঁচকে যাওয়া বা অতিরিক্ত হালকা লিচু না কেনাই ভালো।
বাগান মালিকরা জানান, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনার কারণে এখন অনেক বাগানে উন্নত মানের লিচু উৎপাদন হচ্ছে। সময়মতো পরিচর্যা ও স্প্রে করলে ফলের গুণগত মান ভালো থাকে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কমে আসে।
তাদের মতে, বর্তমানে অনেক লিচু রোগবালাইমুক্ত, দেখতে আকর্ষণীয় এবং স্বাদেও বেশ মিষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে লিচু কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। কেনার আগে ফলের রঙ, গন্ধ, খোসা ও ডাঁটার অবস্থা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ ভেজাল বা কৃত্রিম রঙ করা লিচু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সচেতনভাবে লিচু নির্বাচন করলে যেমন নিরাপদ ও সুস্বাদু ফল উপভোগ করা যায়, তেমনি ভেজাল ও পোকামাকড় আক্রান্ত লিচুর ঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ




