বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৩:০৭ পিএম
ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতি বছরই বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশেও বাড়ছে এ নিয়ে শঙ্কা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৩১৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৬ জন। একই সময়ে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬০ জন। অন্যদিকে চিকুনগুনিয়ার হালনাগাদ পরিসংখ্যান না থাকলেও গত বছর ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েক হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্ষা মৌসুমে এসব রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নতুন উপায় খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে এবার মশার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামানো হচ্ছে মশাকেই।
বিজ্ঞানীরা এমন এক অভিনব কৌশল নিয়ে কাজ করছেন, যেখানে রোগ ছড়ানো স্ত্রী মশার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ধরনের পুরুষ মশা। এই পুরুষ মশাগুলোর শরীরে থাকবে একটি উপকারী জীবাণু, যা স্ত্রী মশার শরীরে প্রবেশ করে রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডা অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ বিশেষ পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব মশা মানুষের রক্ত খায় না। তারা ফুল ও উদ্ভিদের রস খেয়েই বেঁচে থাকে।
গবেষকদের মতে, স্ত্রী মশাই মূলত মানুষকে কামড়ায় এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়ায়। তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করাই মূল লক্ষ্য। বিশেষ জীবাণুবাহী পুরুষ মশা স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হলে ওই জীবাণু স্ত্রী মশার শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ডিম উৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায়। আবার জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের মশার মধ্যেও রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা হ্রাস পায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জীবাণুর নাম ওলবাকিয়া। এটি প্রকৃতিতেই বিদ্যমান একটি জীবাণু। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মশার শরীরে এই জীবাণু থাকলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার জীবাণু সহজে বংশবিস্তার করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলে কোনো অঞ্চলে মশা পুরোপুরি না কমলেও রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণে এই ‘মশা দিয়ে মশা দমন’ পদ্ধতি নতুন আশার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ