ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

যে কারণে কম পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে লাফায়!

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কম পানির মাছকে হঠাৎ বেশি পানিতে ছেড়ে দিলে অনেক সময় দেখা যায়, মাছগুলো অস্থিরভাবে সাঁতার কাটতে থাকে, বারবার দিক পরিবর্তন করে কিংবা লাফিয়ে ওঠে। সাধারণভাবে এটি মাছের স্বাভাবিক চঞ্চলতা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু জৈবিক ও ভৌত কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের জীবন সম্পূর্ণভাবে পানির পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। পানির গভীরতা, অক্সিজেনের মাত্রা, খনিজ লবণের ঘনত্ব, তাপমাত্রা ও প্রবাহের ধরন সবকিছু মিলিয়ে মাছের জন্য একটি স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হয়। ছোট ডোবা বা অগভীর জলাশয়ের মাছকে হঠাৎ গভীর বা বড় জলাশয়ে ছেড়ে দিলে এই পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যগুলো একসঙ্গে পরিবর্তিত হয়, যার ফলে মাছের শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

গভীর পানিতে পানির চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। এই বাড়তি চাপের সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়ায় মাছের শরীরের সংবেদনশীল ব্যবস্থা, বিশেষ করে ‘ল্যাটারাল লাইন সিস্টেম’, নতুন পরিবেশকে অস্বাভাবিক হিসেবে শনাক্ত করে। এর ফলে মাছ দ্রুত নড়াচড়া শুরু করে এবং অনেক ক্ষেত্রে লাফানোর আচরণও দেখা যায়।

এছাড়া পানির বিভিন্ন স্তরে অক্সিজেনের বণ্টন একরকম থাকে না। নতুন পরিবেশে মাছের ফুলকাকে অক্সিজেন গ্রহণের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। এ সময় মাছের শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়, যা তাদের অস্থির আচরণের অন্যতম কারণ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মাছের শরীর সবসময় পানি ও খনিজ লবণের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে, যাকে ‘অসমোরেগুলেশন’ বলা হয়। নতুন জলাশয়ে খনিজ লবণের ঘনত্ব ভিন্ন হলে মাছের শরীর দ্রুত সেই ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করে। এই অভিযোজন প্রক্রিয়ার চাপও মাছের আচরণে প্রভাব ফেলে।

মাছ পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পায় ল্যাটারাল লাইন সিস্টেমের মাধ্যমে, যা পানির কম্পন ও প্রবাহ শনাক্ত করে। ছোট জলাশয় থেকে বড় জলাশয়ে গেলে পানির প্রবাহ ও সংকেতের জটিলতা বেড়ে যায়। ফলে মাছ নতুন পরিবেশ বোঝার জন্য বারবার দিক পরিবর্তন করে এবং দ্রুত সাঁতার কাটে।

পরিবেশের আকস্মিক পরিবর্তনে মাছের শরীরে ‘কর্টিসল’ নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এতে হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বেড়ে যায় এবং পেশিগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফল হিসেবে মাছের মধ্যে অস্থিরতা ও লাফানোর প্রবণতা দেখা দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে লাফানো বা দ্রুত সাঁতার কাটা স্ট্রেসের লক্ষণ নয়। অনেক সময় মাছ নতুন পরিবেশে বেশি জায়গা পেয়ে সেটি অন্বেষণ করার জন্যও সক্রিয় আচরণ করে।

প্রজাতিভেদেও এই প্রতিক্রিয়ার তারতম্য দেখা যায়। কই, শিং ও মাগুরের মতো মাছ পরিবেশ পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। অন্যদিকে কার্পজাতীয় অনেক মাছ তুলনামূলক কম লাফালেও নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশি সময় নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যে লাফানো বা অস্থির আচরণ দেখা যায়, তা মূলত পানির চাপ, অক্সিজেনের বণ্টন, খনিজ লবণের ভারসাম্য, সংবেদনশীল স্নায়ুতন্ত্র এবং স্ট্রেস হরমোনের সম্মিলিত প্রভাবে ঘটে। এটি মাছের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রাথমিক ধাপেরই একটি অংশ।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
মৌমাছির চাকে বাজপাখির হানা, প্রাণ গেল বৃদ্ধের
বুড়ির বাঁধে মাছ শিকারের উৎসবে মেতেছে ঠাকুরগাঁওবাসী
এবার পুকুরের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক
রাতে চোখে ঘুম লেগে আসে পাহারাদারের, এই সুযোগেই ঘটে ‘সর্বনাশ’