বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ০৯:৩০ এএম
ব্রেকআপের পর হঠাৎ মুখে ব্রণ, কিংবা জীবনের বড় কোনো চাপের সময় একজিমা বা ত্বকের অস্বস্তি বেড়ে যাওয়া—এগুলো অনেকেই কাকতালীয় মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে মানসিক চাপ ও ত্বকের গভীর বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক।
গবেষণা বলছে, মন ও ত্বক একে ওপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানসিক চাপ বাড়লে মস্তিষ্ক থেকে সংকেত গিয়ে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন তৈরি হয়। এই হরমোনগুলো রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ত্বকে প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়।
ফলে ব্রণ, ত্বকের শুষ্কতা, সংবেদনশীলতা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে একজিমা, সোরিয়াসিস ও আমবাতের মতো চর্মরোগও আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাপের সময় ত্বকের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে আর্দ্রতা কমে যায় এবং জীবাণু বা অ্যালার্জেন সহজেই ত্বকে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ত্বক আরও শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত হয়ে ওঠে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো ‘ইচ-স্ক্র্যাচ চক্র’। চুলকানি শুরু হলে মানুষ চুলকায়। এতে ত্বক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর চুলকানিও বেড়ে যায়। এতে মানসিক চাপ আরও বাড়ে, এভাবেই তৈরি হয় এক দুষ্টচক্র।
চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ কমানো গেলে অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের সমস্যাও কমে আসে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন এবং সুষম জীবনযাপন স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের সমস্যা শুধু বাহ্যিক নয়, এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই ত্বকের যত্নের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি।
আরটিভি/জেএমএ