বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ১০:০০ এএম
ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখতে এখন আর শুধু দামি স্কিনকেয়ার পণ্যের ওপর নির্ভর করছেন না অনেকেই। রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান দিয়েই ঘরোয়া যত্নে ফিরছে ত্বকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সেই তালিকায় সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় নাম—মসুর ডাল।
ত্বককে উজ্জ্বল আর মসৃণ রাখার জন্য এখন আর শুধু দামি স্কিনকেয়ার পণ্যের পেছনে ছুটছেন না অনেকেই। বরং রান্নাঘরের সাধারণ উপাদানই হয়ে উঠছে ঘরোয়া সৌন্দর্যের আসল রহস্য। সেই তালিকায় সবার আগে যে নামটি উঠে আসছে, তা হলো সস্তার মসুর ডাল। যেটা দিয়ে ত্বকের যত্নে আসছে একেবারে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতার ছোঁয়া।
প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এই ফেসপ্যাক ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে, লোমছিদ্র পরিষ্কার রাখে এবং ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মসুর ডালে থাকা প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটিং গুণ ত্বককে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করে।
এই ফেসপ্যাক তৈরিতে মূল উপাদান হলো মসুর ডাল। চাইলে এর সঙ্গে মধু, দুধ, দই, হলুদ বা গোলাপজল মিশিয়ে আরও কার্যকর পেস্ট তৈরি করা যায়। পুরো মিশ্রণটি মুখ ও গলায় লাগালে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হয় এবং ধীরে ধীরে উজ্জ্বলতা বাড়ে।
নিয়মিত ব্যবহারে রোদে পোড়া দাগ বা ট্যান কমাতেও এটি সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে দুধ বা লেবুর রসের সঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের কালচে ভাব কমতে শুরু করে। তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্যও এটি উপকারী। কারণ এটি অতিরিক্ত তেল শোষণ করে কিন্তু ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে না।
ফেসপ্যাক তৈরির জন্য ২ টেবিল চামচ মসুর ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরদিন এটি ভালোভাবে পিষে মসৃণ পেস্ট তৈরি করে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে নিতে হয়। এরপর এটি মুখ ও গলায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হয়। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহেই পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সব ত্বকে এটি সমানভাবে মানায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে লালচে ভাব, জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই প্রথম ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি।
এছাড়া যাদের ত্বকে একজিমা, রোসেসিয়া বা গুরুতর ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। প্রাকৃতিক হলেও সঠিকভাবে এবং ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ