শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৯:১২ এএম
মরিচ ছাড়া বাঙালির রান্না যেন কল্পনাই করা যায় না। তবে অনেকের জন্য সামান্য ঝালও হয়ে ওঠে বড় যন্ত্রণা। অল্প মরিচ খেলেই মুখ জ্বালা, ঘাম, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা বারবার পানি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু কখনও ভেবেছেন, মরিচ খেলে আসলে ঝাল লাগে কেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরিচে থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদানই ঝালের জন্য দায়ী। এই উপাদান মুখের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায়, যেন শরীর আগুনের তাপে পুড়ে যাচ্ছে। ফলে মুখে জ্বালাপোড়া ও গরম অনুভূতি তৈরি হয়।
অনেকেই মনে করেন মরিচের বীজ সবচেয়ে ঝাল। তবে প্রকৃতপক্ষে মরিচের ভেতরের সাদা অংশেই সবচেয়ে বেশি ঝালের উপাদান থাকে।
তবে মজার বিষয় হলো, সবার ঝাল সহ্য করার ক্ষমতা এক রকম নয়। কারও শরীরে ঝাল শনাক্তকারী স্নায়ুর সংখ্যা বেশি থাকায় তারা সহজেই ঝালে কাবু হয়ে যান। আবার কেউ কেউ জন্মগতভাবেই বেশি ঝাল সহ্য করতে পারেন। ছোটবেলা থেকে ঝাল খাওয়ার অভ্যাসও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝাল খাওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো সম্ভব। নিয়মিত অল্প পরিমাণ ঝাল খাবার খেলে শরীর একসময় এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে। ফলে আগের তুলনায় ঝাল কম অনুভূত হয়।
ঝাল লাগলে অনেকেই পানি পান করেন। কিন্তু এতে খুব একটা উপকার হয় না। কারণ ঝালের উপাদান পানিতে মিশে না। বরং দুধ, দই কিংবা দুধজাত খাবার ঝাল কমাতে বেশি কার্যকর। এসব খাবার মুখে থাকা ঝালের উপাদানকে ভেঙে দিতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত ঝাল শরীরের জন্য উপকারীও হতে পারে। মরিচে থাকা উপাদান শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে।
তাই ঝালকে ভয় না পেয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল খেয়ে শরীরে অস্বস্তি তৈরি হলে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ