রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০২:৪১ পিএম
অনেকেই আছেন যারা প্রচুর খাবার খেয়েও ওজন বাড়াতে পারেন না। অন্যদিকে অনেকের জন্য ওজন কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এত খাওয়ার পরও ওজন বাড়ে না কেন? এর পেছনে কি কোনো শারীরিক সমস্যা আছে, নাকি অন্য কোনো কারণ কাজ করে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন না বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শরীরের বিপাকক্রিয়া, বংশগত বৈশিষ্ট্য, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ক্যাথলিন মেলানসনের মতে, অনেক সময় যাদের দেখে মনে হয় তারা অনেক বেশি খাচ্ছেন, বাস্তবে তারা মোট খাবারের পরিমাণে অন্যদের তুলনায় বেশি খান না।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কেউ হয়তো একবেলা বেশি খেলেও দিনের অন্য সময় কম খেয়ে সেই অতিরিক্ত শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখেন। আবার অনেকেই ধীরে ধীরে খান এবং পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দেন।
গবেষকদের মতে, শরীরের বিপাকক্রিয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি নড়াচড়া করেন, তাদের শরীর বেশি শক্তি খরচ করে। ফলে অতিরিক্ত শক্তি জমে চর্বি হিসেবে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
এছাড়া শরীরের ক্ষুধা ও পেট ভরার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন হরমোনও ওজনের ওপর প্রভাব ফেলে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় তারা সহজেই বুঝতে পারেন কখন খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বংশগত বৈশিষ্ট্যও ওজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের শরীরে এমন বৈশিষ্ট্য থাকে যা তাদের স্বাভাবিকভাবে কম ওজনের দিকে রাখে। তবে শুধু বংশগত কারণই সবকিছু নির্ধারণ করে না।
ওজন কম হলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
তাদের মতে, কেক, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। বরং দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া, দুধ, পনির, বাদাম ও শুকনো ফলের মতো শক্তিসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ওজন বাড়া বা না বাড়া কোনো একক কারণে হয় না। এটি শরীরের ভেতরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া, জীবনযাপন ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের সম্মিলিত ফল। তাই স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে হলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ