images

লাইফস্টাইল

কিছু মানুষ ভূমিকম্প টের পান না কেন 

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০১:০৮ পিএম

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হলেও অনেকেই জানান, তারা কিছুই টের পাননি। কেউ ঘুম থেকে উঠে খবর পান, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে জানতে পারেন ভূমিকম্প হয়ে গেছে।

একই সময়ে একই স্থানে থাকা সত্ত্বেও কেন সবাই ভূমিকম্প অনুভব করেন না—এ প্রশ্ন এখন অনেকের মনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো মানুষের সংবেদনশীলতা এবং অবস্থানগত পার্থক্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন বিবিসিকে বলেন, আপনি কত তলায় আছেন, তার ওপর ভূমিকম্প অনুভব করার বিষয়টি অনেকটা নির্ভর করে। উপরের তলায় থাকলে ঝাঁকুনি বেশি অনুভূত হয়, নিচের দিকে তুলনামূলক কম হয়।

তিনি আরও জানান, কিছু মানুষের গতি বা কম্পন অনুভব করার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, আবার কারও ক্ষেত্রে তা কম।

আরও পড়ুন
Web-Image

ভূমিকম্পের সময় কী করবেন, কী করবেন না

কেউ কেউ উচ্চতা বা গতির পরিবর্তন খুব সংবেদনশীলভাবে অনুভব করেন, আবার কেউ একেবারেই টের পান না, বলেন তিনি।

তার মতে, ভূমিকম্পের সময় ব্যক্তি কী অবস্থায় ছিলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যিনি বিশ্রামে ছিলেন তিনি সহজে টের পান, কিন্তু কেউ চলাফেরা বা কাজের মধ্যে থাকলে তার টের না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কেউ যদি রান্না করেন, হাঁটাচলা করেন বা দৌড়ান, তিনি অনেক সময় ভূমিকম্প বুঝতেই পারেন না। কিন্তু স্থিরভাবে বসে থাকা ব্যক্তি সহজেই কম্পন অনুভব করতে পারেন।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দেশের অবস্থান হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এসব প্লেটের নড়াচড়ার ফলে ভূগর্ভে শক্তি জমা হয় এবং সেই শক্তি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

ডাউকি ফল্টসহ দেশের ভেতর ও আশপাশে একাধিক সক্রিয় ফল্ট থাকায় বাংলাদেশ মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎসস্থল দূরে হলেও তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই ঢাকায় বসেও অনেক সময় দূরের ভূমিকম্প স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি থাকলেও প্রস্তুতি এখনো পর্যাপ্ত নয়।

ভূমিকম্প পরিমাপের জন্য বর্তমানে মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দুই দশমিক পাঁচ মাত্রার নিচের ভূমিকম্প সাধারণত অনুভূত হয় না, তবে বড় মাত্রার ভূমিকম্প মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতিই ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে বড় উপায়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 


আরটিভি/জেএমএ