শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০১:০১ পিএম
বাংলাদেশে প্রতিবছরই ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন এবং নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ।
চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন না।
বর্তমানে দেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে পাঁচ ধরনের ক্যান্সার—খাদ্যনালি, মুখ ও ঠোঁট, ফুসফুস, স্তন এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সার।
খাদ্যনালির ক্যান্সার শীর্ষে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় খাদ্যনালির ক্যান্সার। বর্তমানে প্রায় ৪২ হাজারের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত।
প্রতি বছর আরও প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও এটি সবচেয়ে ভয়াবহ, কারণ ক্যান্সারে মোট মৃত্যুর প্রায় এক-পঞ্চমাংশই এই রোগে হয়।
পুরুষদের মধ্যে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সার
দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সার। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।
প্রতি বছর প্রায় ১৬ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর বড় অংশই পুরুষ।
ফুসফুসের ক্যান্সার
মৃত্যুহারের দিক থেকে ভয়াবহ অবস্থানে রয়েছে ফুসফুসের ক্যান্সার। বছরে ১২ হাজারের বেশি মানুষ এতে প্রাণ হারান।
বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ এই ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে আরও প্রায় ১৩ হাজার রোগী যুক্ত হচ্ছেন।
স্তন ক্যান্সার
নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যান্সার। প্রায় ৩৫ হাজার নারী এতে আক্রান্ত।
প্রতি বছর আরও প্রায় ১৩ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুর হারও ক্রমাগত বাড়ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যেই এই ক্যান্সার বেশি দেখা যাচ্ছে।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার
নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর কারণ জরায়ুমুখের ক্যান্সার। দেশে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার নারী এতে আক্রান্ত।
প্রতি বছর প্রায় সাড়ে নয় হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং প্রায় ৫৮০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে।
কেন বাড়ছে ক্যান্সার
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ক্যান্সার বাড়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—
চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুস ক্যান্সারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
সচেতনতা ও প্রতিরোধ জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো সচেতনতা, টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বাড়ানো গেলে অনেক ধরনের ক্যান্সার কমানো সম্ভব।
তাদের মতে, নারীদের মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা জরুরি।
বাংলাদেশে ক্যান্সার পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তবে সচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ