শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০২:২৮ পিএম
অবসরে গিয়েছেন, কিন্তু আনন্দে নেই মন? অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা যায়। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে হঠাৎ কাজহীন হয়ে পড়লে অনেকেই একাকিত্ব, হতাশা ও পরিচয় সংকটে ভুগতে শুরু করেন। কেউ সংসারের খুঁটিনাটি বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেন, আবার কেউ পরিবারে অকারণ বিরোধেও জড়িয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসর জীবনকে উপভোগ্য করতে হলে নিজেকে সক্রিয় রাখার বিকল্প নেই।
অবসরের পর কেন বাড়ে মানসিক চাপ?
দীর্ঘদিন কর্মব্যস্ত থাকার পর হঠাৎ নিয়মিত কাজ বন্ধ হয়ে গেলে অনেকের মধ্যেই শূন্যতা তৈরি হয়। অফিস, সহকর্মী, দায়িত্ব ও ব্যস্ততা হারিয়ে অনেকেই নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভাবতে শুরু করেন। পাশাপাশি আয় কমে যাওয়া ও আর্থিক সীমাবদ্ধতাও উদ্বেগ বাড়ায়।
সুখে থাকতে যা করবেন
অবসরের পর নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুনদের পরামর্শ দিতে পারেন। চাইলে সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত হতে পারেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ানো, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করা কিংবা এলাকার উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশ নেওয়া হতে পারে ভালো বিকল্প।
পরিবারের ছোট সদস্যদের সময় দেওয়া, নাতি-নাতনিদের পড়ানো কিংবা তাদের সঙ্গে সময় কাটানোও একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে।
ফিরে আসুক পুরোনো শখ
ব্যস্ততার কারণে যেসব শখ পূরণ করা হয়নি, অবসরই হতে পারে সেই স্বপ্ন পূরণের সময়। বই পড়া, ছবি আঁকা, বাগান করা, মাছ চাষ কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা শেখার মাধ্যমে সময়কে আনন্দময় করা সম্ভব।
নতুন বন্ধু, নতুন আনন্দ
নিজের মতো অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি, আড্ডা কিংবা ভ্রমণ মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে। এতে একাকিত্বও অনেকটাই কমে যায়।
স্বাস্থ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ
অবসরের পর নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ধূমপান ত্যাগ এবং সময়মতো ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে নানা রোগের ঝুঁকিও কমে।
পরিবর্তনকে মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবসরের পর পরিবারের সদস্যদের জীবনযাপনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করে নিজের সময় ও আগ্রহের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। প্রত্যেকের স্বাধীনতাকে সম্মান করলে পারিবারিক সম্পর্কও ভালো থাকে।
অবসর মানেই জীবনের শেষ নয়, বরং নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। সঠিক পরিকল্পনা ও ইতিবাচক মনোভাব থাকলে এই সময়টুকুও হতে পারে জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় পর্ব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ