অনেকেই লেখালেখি করতে ভালোবাসেন। কেউ গল্প লেখেন, কেউ নিবন্ধ, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন। কিন্তু ভালো লেখক হতে গেলে শুধু লিখলেই হয় না, জানতে হয় কিছু জরুরি কৌশলও।
ভাষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লেন গ্রিন ভালো লেখক হওয়ার জন্য সাতটি কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন। এসব কৌশল অনুসরণ করলে লেখাকে আরও আকর্ষণীয় ও পাঠকবান্ধব করে তোলা সম্ভব।
আকর্ষণীয় শুরু করুন
যেকোনো লেখার শুরুই পাঠকের আগ্রহ তৈরি করে। তাই সরাসরি মূল বিষয়ে না গিয়ে এমন কোনো ঘটনা, বর্ণনা বা উদাহরণ দিয়ে শুরু করা উচিত, যা পাঠকের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।
বাক্য ছোট রাখুন
ছোট বাক্য সহজে বোঝা যায়। দীর্ঘ ও জটিল বাক্য পাঠকের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। তাই সহজ ও সংক্ষিপ্ত বাক্যে ভাব প্রকাশ করাই ভালো।
ছোট-বড় বাক্যের মিশ্রণ রাখুন
সব বাক্য যদি খুব ছোট হয়, তাহলে লেখা একঘেয়ে হয়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ও কিছুটা বড় বাক্যের সমন্বয় রাখলে লেখার গতি ও সৌন্দর্য বাড়ে।
সঠিক শব্দ বেছে নিন
একটি উপযুক্ত শব্দ পুরো লেখার অর্থ বদলে দিতে পারে। এমন শব্দ ব্যবহার করা উচিত, যা পাঠকের মনে স্পষ্ট ছবি তৈরি করে এবং লেখাকে জীবন্ত করে তোলে।
অস্পষ্ট শব্দ এড়িয়ে চলুন
ঘটনা, পর্যবেক্ষণ বা স্তর-এর মতো বিমূর্ত শব্দের বদলে নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করা ভালো। এতে পাঠক বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন।
লেখা জোরে পড়ে দেখুন
লেখা শেষ হওয়ার পর সেটি জোরে পড়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোথাও শব্দ বাদ গেছে কি না বা বাক্যের ছন্দ নষ্ট হয়েছে কি না, তা সহজে ধরা পড়ে।
শক্তিশালী সমাপ্তি টানুন
লেখার শেষ অংশই পাঠকের মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই শেষ বাক্য বা শব্দ এমন হওয়া উচিত, যা পাঠকের মনে দীর্ঘ সময় ধরে ছাপ ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো লেখক হওয়ার কোনো শর্টকাট নেই। নিয়মিত চর্চা, সঠিক শব্দের ব্যবহার এবং পাঠকের মন বোঝার ক্ষমতাই একজন লেখককে আলাদা করে তোলে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



